বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই ধনদেবীর আরাধনায় ভক্তিমুখর পরিবেশ। প্রতিবছর শারদীয় পূর্ণিমার রাতে লক্ষ্মীদেবীর বন্দনা হয়। বিশ্বাস করা হয়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী স্বর্গ থেকে নেমে আসেন এবং যিনি রাত জেগে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁকে আশীর্বাদ করেন মা লক্ষ্মী। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাংলার অন্যতম প্রধান ঘরোয়া উৎসব।
এই বছর কখন কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করবেন?
২০২৫ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে সোমবার, ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে)। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ সোমবার সকাল ১১টা ১২ মিনিটে এবং শেষ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে। অর্থাৎ, সোমবার পূর্ণিমার রাতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করা হবে।
কেন বলা হয় ‘কোজাগরী’?
‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কঃ জাগর’ শব্দবন্ধ থেকে। অর্থাৎ—“কে জেগে আছ?” বিশ্বাস করা হয়, পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী পৃথিবীতে নেমে এসে খোঁজ করেন কারা জেগে তাঁর আরাধনা করছেন। যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে মা লক্ষ্মীর পুজো করেন, তাঁদের ঘরে কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও সম্পদ বর্ষিত হয়।
লক্ষ্মীপুজোর অপরিহার্য উপকরণ
শাস্ত্রমতে, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনায় বেশ কিছু উপকরণ অবশ্যই রাখতে হয়। যেমন—চন্দন, ধূপ, দীপ, আতপ চাল, ধান, হলুদ, পান, কড়ি, ফুল এবং বিশেষ করে পদ্মফুল। মা লক্ষ্মীকে তুলসী নিবেদন করা হয় না, তবে নারায়ণের জন্য তুলসী রাখা আবশ্যক। এছাড়া অর্পণ করতে হয় মিষ্টি, ফল, মোয়া, নাড়ু, দই, ঘি, মধু, চিনি ইত্যাদি। বাংলার ঘরে ঘরে মহিলারা নিজে হাতে আলপনা এঁকে এবং তামার পাত্র ব্যবহার করে পুজোর আয়োজন করেন।
কোজাগরী পূর্ণিমার মাহাত্ম্য
শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে কোজাগরী পূর্ণিমা শুভ শক্তির বিস্তার ঘটায়। চন্দ্রের পূর্ণ আলোয় লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করলে সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তাই এদিন রাতে যত দেরি পর্যন্ত সম্ভব, ভক্তরা জেগে থেকে দেবীর পুজো ও ভজন-স্মরণ করেন।
সংক্ষেপে
এই বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হবে সোমবার, ৬ অক্টোবর রাতে। পূর্ণিমা তিথি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকলেও, দেবীর আরাধনা সর্বাধিক শুভ হবে সোমবার রাতেই। প্রস্তুতি নিন এখন থেকেই, কারণ মা লক্ষ্মীর কৃপায় ঘর ভরে উঠবে সুখ, শান্তি ও সম্পদে।



