নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপিকে সমর্থন করার অভিযোগে এক প্রৌঢ়াকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটার মানিকহীরা দেশপাড়ায়। মৃত প্রৌঢ়ার নাম কানন রায় (৬২)। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি তথা গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নিরুপম রায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুনঃ ‘চোর-চরিত্রহীন’? সৌমিত্রর নামে পোস্টার, বাঁকুড়ায় বিষম বিড়ম্বনায় বিজেপি!


জানা গিয়েছে, মৃত কানন রায়ের পরিবার বিজেপিকে সমর্থন করে। আর সে কারণে বুধবার তাঁদের পরিবারকে গালিগালাজ করেন প্রতিবেশী তথা তৃণমূল কর্মী সমীর মল্লিক। এরপর প্রতিবাদ জানাতে বাড়ির বাইরে আসেন কানন দেবী ও তাঁর পুত্রবধূ। শুরু হয় ঝামেলা। বাকবিতণ্ডা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কানন রায়কে বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন সমীর মল্লিক।

ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কানন রায়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় বারাসাত জেলা হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা কানন দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করে।



এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গাইঘাটার মানিকহীরা দেশপাড়ায়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কানন রায়কে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই সমীর মল্লিককে গ্রেফতার করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ। যদিও হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে যুব তৃণমূল।
কেন বিজেপিকে সমর্থন? গাইঘাটায় প্রৌঢ়াকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ TMC কর্মীর বিরুদ্ধে
মৃত কানন রায়ের ছেলে জয়ন্ত রায় বলেছেন, “সমীর মল্লিক বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করেছে। তারপর প্রতিবাদ করায় বাঁশ দিয়ে মেরেছে। বাবাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।” গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “শান্ত অঞ্চলকে অশান্ত করছে তৃণমূল। আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। আগেও বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরুপম রায়ের ওপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে। ১০ বছর আগে এই সব মানুষ ছিল না। এরা কি কাঁটাতার পেরিয়ে এসেছে?”
পাল্টা নিরুপম রায় সমস্ত রকম অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, “আমার বাড়ির বাইরে বিজেপি কর্মীরা ঘেরাও করেছে। উগ্র আচরণ প্রদর্শন করেছে। আমি চাইব প্রশাসন যেন আইন মেনেই যা ব্যবস্থা নেবার নেয়।”








