খগেন হামলা-কাণ্ডে (Khagen Murmu Attack Case) কেটে গিয়েছে প্রায় ২২ ঘণ্টা, তবুও একটিও গ্রেফতার হয়নি। সোমবার নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (BJP MP Khagen Murmu) এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (MLA Shankar Ghosh)-এর উপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া।
সোমবার বিকেলে বন্যা-পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন খগেন মুর্মু। অভিযোগ, সেই সময়ই একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয়। নাক-মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল, গামছা বা রুমাল দিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা শঙ্কর ঘোষও গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ এখনও কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা কোথায়?”
এই ঘটনায় সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) নিজেও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “একজন সাংসদ ও একজন বিধায়ক যখন দুর্গত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁদের উপর হামলা হয়েছে—এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূলের অসংবেদনশীলতা ও বাংলার ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবি।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলা করবেন। তাঁর কথায়, “ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে কারা হামলা চালিয়েছে। যদি আজ বিকেলের মধ্যে কোনও গ্রেফতার না হয়, তবে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।”
অন্যদিকে, পালটা সুরে মন্ত্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বলেন, “পুলিশ আগে কোনটা করবে—বন্যা মোকাবিলা না গ্রেফতার? সময় দিতে হবে তো।” তাঁর বক্তব্য, সরকারের প্রথম দায়িত্ব দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো, রাজনীতি নয়।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে উত্তরবঙ্গ সফরে আসা অমিত শাহ (Amit Shah North Bengal Visit)-র কাছে সরাসরি বিষয়টি তুলবে। ফলে আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
খগেন হামলা-কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি হামলার ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



