ভারতের তরফে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত করার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানে। দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রধান তিন নদী— সিন্ধু (Indus), বিতস্তা (Jhelum) এবং চন্দ্রভাগা (Chenab)-র জলের প্রবাহ ও সংরক্ষিত জলস্তর উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। পাকিস্তানের ‘ইন্ডাস রিভার সিস্টেম অথরিটি’ (IRSA)-র মতে, জলপ্রবাহ কমার কারণে কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে পঞ্জাব ও সিন্ধ প্রদেশে।
পাকিস্তানের দাবি, গত কয়েক দিনে চন্দ্রভাগা নদীর প্রবাহ হঠাৎ কমে গিয়েছে প্রায় ৯১,০০০ কিউসেক। একই সঙ্গে বিতস্তা নদীর উপর নির্মিত মংলা জলাধার এবং সিন্ধুর উপর থাকা তারবেলা বাঁধে জলস্তর অর্ধেকে নেমে এসেছে। IRSA এক বিবৃতিতে জানায়, চন্দ্রভাগা নদীতে ভারতের জলরোধের ফলে খারিফ মরসুমে জলচাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


সিন্ধু ও বিতস্তা বাঁধে জলস্তর কমে অর্ধেক, চন্দ্রভাগার প্রবাহও হ্রাস, চরম সংকটে পাকিস্তান

চাষাবাদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব:
পাকিস্তানের ‘WAPDA’-র (Water and Power Development Authority) তথ্যে জানা গিয়েছে, মংলা বাঁধে জল ধারণক্ষমতা যেখানে ৫৯ লক্ষ একর-ফুট, বর্তমানে সেখানে রয়েছে মাত্র ২৭ লক্ষ একর-ফুট জল। অন্যদিকে, তারবেলা বাঁধে থাকার কথা ছিল ১.১৬ কোটি একর-ফুট, কিন্তু রয়েছে মাত্র ৬০ লক্ষ একর-ফুট জল। এই পরিস্থিতিতে পঞ্জাব ও সিন্ধ অঞ্চলের কৃষকরা পড়েছেন ভয়ানক সমস্যায়।
সিন্ধুচুক্তি স্থগিত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান সিন্ধু জলচুক্তি। কিন্তু কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সেই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্থগিত করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, “জল ও রক্ত পাশাপাশি বইতে পারে না।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা ও বেআইনি’ বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা:
পাক কর্তৃপক্ষ বলছে, জলসঙ্কট আরও বাড়তে পারে বর্ষা না-পড়া পর্যন্ত। IRSA কর্তৃপক্ষ সেচ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ‘সংযমী ও বিচক্ষণতা’র সঙ্গে জল ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও বর্ষাকাল আসন্ন, তবুও তখনও পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এই মুহূর্তে পাকিস্তানের ২৪ কোটি জনসংখ্যার জীবন ও অর্থনীতি যে মূলত সিন্ধু নদী অববাহিকার জলের উপর নির্ভরশীল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভারতের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের কৃষি, শিল্প ও রাজনৈতিক স্থিতাবস্থার উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








