দাড়ি রাখায় ভর্তি বাতিল, কাশ্মীরি ছাত্রের সঙ্গে চরম অন্যায় কোয়েম্বাটুর হাসপাতাল

কোয়েম্বাটুরের মেডিক্যাল কলেজে দাড়ির জন্য ভর্তি বাতিলের অভিযোগ উঠল কাশ্মীরি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানাল ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চেন্নাই: কোয়েম্বাটুরের কোভাই মেডিক্যাল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে (KMCH) এক কাশ্মীরি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ধর্মীয় কারণে দাড়ি না কাটায় তাঁকে ডিএনবি (নেফ্রোলজি) কোর্সে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি।

কাশ্মীরের ডঃ জুবাইর আহমদ এই কোর্সে NEET-SS কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি হন। তবে হাসপাতালের ‘ড্রেস কোড’ অনুযায়ী, তাঁকে দাড়ি পরিষ্কার করে ফেলতে বলা হয়। ডাঃ জুবাইর বলেন, তাঁর দাড়ি রাখা একটি ধর্মীয় দায়িত্ব এবং তিনি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে ও সব হাইজিন নিয়ম মেনে কাজ করবেন বলেও প্রস্তাব দেন।

Shamim Ahamed Ads

🙏 ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্ন:
কিন্তু হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, এখানে ক্লিন শেভ বা ছাঁটা দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক। ডাঃ জুবাইর তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসে আপস করতে রাজি না হওয়ায় শেষমেশ তাঁকে কোর্স ত্যাগ করতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সরব হয়েছে। সংগঠনের জাতীয় আহ্বায়ক নাসির খুইহামি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে একটি চিঠি লিখে এই ঘটনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

⚖️ সংবিধানের উপর আস্থা:
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। দাড়ি রাখা একজন মুসলিমের ধর্মীয় স্বাধীনতার অঙ্গ, যা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, কোভাই হাসপাতালের এই নীতি সংবিধানবিরোধী এবং বৈষম্যমূলক। তাই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন যেন রাজ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়।

🏥 হাসপাতালের সাফাই:
হাসপাতালের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আর নারায়ণন দাবি করেন, “আমরা কাউকে দাড়ি সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে বলিনি। আমরা কেবল ট্রিম করে রাখতে বলেছি যাতে পরিপাটি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। এই নিয়ম সকল কর্মচারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগজামিনেশন্স ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (NBEMS)-কে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছাত্রের।”

💰 অর্থ ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন:
ডাঃ জুবাইর জানিয়েছেন, তিনি NBEMS-এর কাছে আবেদন করেছেন যাতে পরবর্তী কাউন্সেলিং রাউন্ডে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাঁর ₹২ লক্ষ সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন যোগ্য চিকিৎসককে কেবলমাত্র ধর্মীয় পোশাক ও পরিচ্ছন্ন দাড়ির জন্য ভর্তি থেকে বিরত রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত?

🧠 সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন:
তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে, যেখানে বহু দশক ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাম্যের ধারা বজায় রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক সমাজ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

FAQ (Frequently Asked Questions):

Q1. কে এই ডাঃ জুবাইর আহমদ?
Ans: কাশ্মীরের এক চিকিৎসক যিনি কোভাই মেডিক্যাল সেন্টারে ডিএনবি (নেফ্রোলজি) কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন।

Q2. কেন তাঁকে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি?
Ans: হাসপাতালের ড্রেস কোড অনুযায়ী ক্লিন শেভ বাধ্যতামূলক, যা তিনি মানেননি।

Q3. ধর্মীয় দাড়ি রাখা কি সাংবিধানিক অধিকার?
Ans: হ্যাঁ, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্ম পালন করার অধিকার সকলের আছে।

Q4. হাসপাতালের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে?
Ans: তাঁরা জানিয়েছেন যে দাড়ি ছাঁটা রাখতে বলা হয়েছিল, পুরোপুরি কাটতে বলা হয়নি।

Q5. ছাত্র সংগঠন কী দাবি করেছে?
Ans: জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে এবং একে বৈষম্যমূলক বলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত