‘রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়…’, Kasba rape case নিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধেই মুখ খুললেন দলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে কোনও রাখঢাক না রেখেই কঠোর ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। দলের অন্দরেই তৈরি হলো আরও বড় বিতর্ক।
“রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়…”
শনিবার শ্রীরামপুরে এক কর্মসূচিতে কল্যাণ বলেন, “একজন রাজনৈতিক সহকর্মী যদি আরেক মহিলার আস্থা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে থাকে এবং সেই আস্থার বদলে তাঁকে ধর্ষণ করে—তাহলে সমাজ কোথায় দাঁড়াবে?” এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত করেন ছাত্র পরিষদ নেতা মনোজিৎ মিশ্রদের দিকেই। তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে পুরুষদের প্রথম কাজ, নারীদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু রক্ষকই যদি ভক্ষকে পরিণত হয়, তখন তা সমাজের ভয়ঙ্কর অবক্ষয়কেই তুলে ধরে।”
ধর্ষকদের শাস্তি চান প্রকাশ্যে:
তাঁর ক্ষোভ এখানেই থামে না। তিনি বলেন, “যদি আইন না থাকত, তাহলে এই ধর্ষকদের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গুলি করে দিতাম। ওদের ফাঁসি হওয়া উচিত। শুধুমাত্র আইন আছে বলেই এরা বেঁচে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, কল্যাণের বক্তব্য একান্তই তাঁর নিজস্ব এবং দল তা সমর্থন করে না, বরং নিন্দা করে।
‘রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়…’, কসবা ধর্ষণকাণ্ডে ফের বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূলের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কল্যাণ:
দলের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তাহলে কি দল সেই অপরাধীদের রক্ষা করছে? কেবল বক্তৃতা দিয়ে চলবে না, যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, “২০১১-র পর যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই অপরাধে যুক্ত, এটা দলের লজ্জা।” ছাত্র পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের দিকেই তাঁর মূল ইঙ্গিত।
কলেজে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত থাকা কেন?
কল্যাণ প্রশ্ন তোলেন, “কলেজ যদি চারটেয় শেষ হয়, তাহলে ছাত্ররা সন্ধে ৬টা পর্যন্ত কলেজে কী করছে? যদি দলের কাজ থাকে, তবে পার্টি অফিসে যাক, সেখানে সিনিয়ররাও থাকেন। গার্ডরুমে ধর্ষণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি যোগ করেন, “একজন আইন পড়ুয়া, ছাত্রনেতা যদি এমন অপরাধে জড়ায়, তবে তা কেবল দলের নয়, গোটা আইনজীবী সমাজেরও অপমান।”
কী ঘটেছিল কসবায়?
গত বুধবার দক্ষিণ কলকাতার কসবা ল কলেজ-এ ঘটেছে নৃশংস এই ঘটনা। অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা মনোজিৎ মিশ্র কলেজের গার্ডরুমে এক ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। গ্রেফতার হন তিনজন ছাত্র—মনোজিৎ, জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়। এছাড়া ধরা পড়ে এক নিরাপত্তারক্ষীও। ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেও ছাত্র পরিষদের সদস্যা ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে রাজনৈতিক রং আরও গাঢ় হয়েছে।
Kasba rape case নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য স্পষ্টতই দলীয় অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। নারীর নিরাপত্তা, ছাত্র রাজনীতি এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে দল যে চাপের মুখে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দল কী ব্যবস্থা নেয়।
❓ FAQ:
প্রশ্ন: কসবা ল কলেজে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: কলেজের গার্ডরুমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে TMCP নেতার বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন: অভিযুক্ত কারা?
উত্তর: মনোজিৎ মিশ্র, জইব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং এক নিরাপত্তারক্ষী।
প্রশ্ন: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন?
উত্তর: ধর্ষকদের ফাঁসি ও দলের মধ্যে থাকা অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: তৃণমূল কী বলেছে?
উত্তর: কল্যাণের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে জানিয়ে দল তা সমর্থন করেনি।
প্রশ্ন: এই মন্তব্যে দলের ক্ষতি হচ্ছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, দলীয় ঐক্য ও ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



