নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আনায় এবার কপিল সিব্বলের সমালোচনায় সরব রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলট। বিহার নির্বাচনের হারের পর দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যেই এই বাদানুবাদ রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিহারে ভরাডুবির পর দলের মধ্যে ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
আরও পড়ুনঃ ‘লাভ জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কড়া মধ্যপ্রদেশ সরকার,৫ বছরের জেল,পাশ হতে পারে বিলও
শুধু বিহারই নয়, রাজ্যের উপ-নির্বাচনেও খারাপ ফল হয়েছে কংগ্রেসের। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিব্বল। সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে কপিল সিব্বল বলেন, ”বিহারে নীতিশ কুমারের সরকারের বিকল্প চেয়েছিলেন মানুষ। সেক্ষেত্রে আরজেডিকেই তারা চেয়েছিলেন। কংগ্রেসকে নয়। সাধারণ মানুষের মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস।”
কোনও রাখঢাক না করেই সিব্বল স্পষ্ট জানান, ‘দেশের মানুষ কংগ্রেসকে আর বিকল্প শক্তি হিসেবে ভাবছেন না’। আসলে কংগ্রেসের শীর্ষনেতারা যে দল চালাতে গাছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন, সেটা গতকালই চোখে আঙুল দেখিয়ে দিয়েছেন কপিল সিব্বল। প্রকাশ্যে গান্ধীদের নিশানা করে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেছেন,“বিহার ও সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে কংগ্রেসের খারাপ ফল নিয়ে দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তাঁরা হয়তো ভাবছেন সব ঠিক আছে।
পরাজয় দলের অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে।” জনসমক্ষে সিব্বলের এই মন্তব্য যে দলের ভাবমূর্তিকে উজ্বল করেনি সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বেগতিক দেখে আজ দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে আসরে নামেন সোনিয়ার বিশ্বস্ত সৈনিক অশোক গেহলট । সরাসরি সিব্বলকে তোপ দেগে গেহলট বলেন, ”কপিল সিব্বলের ওভাবে জনসমক্ষে দলের অভ্যন্তরের ইস্যু নিয়ে কথা বলা উচিৎ হয়নি। এতে দলের কর্মীদের মনোবলে আঘাত লেগেছে। কংগ্রেস এর আগেও বহু সংকটের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ১৯৬৯, ১৯৭৭, ১৯৮৯, ১৯৯৬…। কিন্তু প্রতিবারই আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে এসেছি।
আর সেটা সম্ভব হয়েছে আমাদের আদর্শ, নীতি, কর্মসূচি আর নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস রেখেই। আজও কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা গোটা দেশকে একত্রিত করে সার্বিক উন্নয়নের পক্ষে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।” উল্লেখ্য, দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা এই প্রথম নয়। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আগেই অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিলেন সিব্বল। এমনকী তিনি এর আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক করে চিঠিও দিয়েছিলেন। দল যেভাবে চলছে তাতে সাফল্য আসা কঠিন বলেও জানিয়েছিলেন সিব্বল। তবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের শীর্ষনেতৃত্ব।



