আরও বিপাকে তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন, লালবাজারে চিঠি, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে চিকিৎসককে হুমকির অভিযোগ, লালবাজারে চিঠি, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের বিরুদ্ধে হাসপাতালে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতা মেডিকেল মহলে। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে চিকিৎসার সময় চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ শুরু করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই লালবাজারে পাঠানো হয়েছে লিখিত অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বউবাজার থানার পুলিশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এফআইআর দায়েরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কি ঘটেছিল হাসপাতালে?

গত বুধবার সকালে অভিনেতা ও উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ ও দিদাশাশুড়িকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাজির হন স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে। ৮৬ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধার ত্বকের সমস্যা থাকায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ তাঁকে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের কাছে পাঠান।

চিকিৎসক মেহবুবার রহমান, যিনি বিভাগীয় প্রধানও, কাঞ্চনের পরিচয় পেয়ে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসক কোনও উদ্বেগজনক উপসর্গ না দেখতে পেয়ে অন্য রোগীদের চিকিৎসার দিকে মনোনিবেশ করতে চাইলে, কাঞ্চন ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসকের উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেন।

রক্তচাপ মাপানো, ওষুধের তালিকা, নানা প্রশ্ন নিয়ে চিকিৎসকের উপর চাপ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ উঠেছে, এই পরিস্থিতিতে কাঞ্চন মল্লিক কর্তব্যরত চিকিৎসককে হুমকি দিয়েছেন।

চিঠি গেল লালবাজারে, তদন্তে বউবাজার থানা

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধিকর্তা শুভাশিস কমল গুহ চিঠি পাঠান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে। সেখানে কাঞ্চনের আচরণ এবং পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

এই চিঠি পুলিশ কমিশনার থেকে পৌঁছায় ডিসি সেন্ট্রাল-এর দফতরে। সেখান থেকে পাঠানো হয়েছে বউবাজার থানায়, যেখানে শুরু হয়েছে প্রাথমিক তদন্ত। যদি তদন্তে ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, এমনটাই জানানো হয়েছে পুলিশ সূত্রে।

ডাক্তারের সংগঠনের ক্ষোভ, মুখ্যসচিবকে চিঠি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফ্রন্ট। তাঁদের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য—রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতা ব্যবহার করে চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট করা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি সামনে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও চলছে জল্পনা। কাঞ্চন মল্লিক নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি বা আমার স্ত্রী কোনও অপ্রীতিকর ব্যবহার করিনি। আমরা শুধু দিদাশাশুড়ির চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম।”

তবে হাসপাতাল সূত্র এবং চিকিৎসকদের বক্তব্যের সঙ্গে সেই দাবি মেল খাচ্ছে না। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে প্রকৃত সত্য।

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন জনপ্রতিনিধির নয়, সমগ্র রাজনৈতিক শালীনতার বিরুদ্ধেই বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত