নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পর জেলমুক্ত প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি!

ইডি–সিবিআইয়ের পর পর মামলা—শেষ পর্যন্ত হাই কোর্টে জামিন, মুক্তি পাচ্ছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: রাজ্যের বহুল আলোচিত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট ইডি-র মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এই মুহূর্তে তাঁর জেল হেফাজত চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সিবিআই–এর মামলাতেও আজ জামিন পেয়ে দুই বছরের বেশি সময় পরে তাঁর জেলমুক্তি নিশ্চিত হতে চলেছে।

২০১৬ সালের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে প্রথম থেকেই। অভিযোগ—তাঁর সভাপতিত্বকালে পর্ষদে তৈরি হয়েছিল অবৈধ নিয়োগের জাল, যার পরিণতিতে সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের এপ্রিলে ২০১৬–র পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিল ঘোষণা করে। এই রায়ে চাকরি হারান ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।

Shamim Ahamed Ads

কল্যাণময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?

শিক্ষা দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগসাজশে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে আসে।
তাঁর বিরুদ্ধে—

১. মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে সভাপতির পদ আঁকড়ে থাকা
২. বেআইনি নিয়োগে সরাসরি ভূমিকা
৩. আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ
৪. বেতন গ্রহণসহ পদে থাকার ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ নেওয়া

নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পর জেলমুক্ত প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি!

নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পর জেলমুক্ত প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি!
নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর পর জেলমুক্ত প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি!

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২২ সালে ইডি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে। পরে সিবিআইও তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। দু’দফা আদালত তাঁর জামিন দিলেও বিভিন্ন মামলার কারণে তিনি জেল থেকে মুক্তি পাননি। আজকের হাই কোর্টের নির্দেশে সেই জট কাটল।

সুপ্রিম কোর্টের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ মন্তব্য কেন্দ্রবিন্দুতে

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল—
২০১৬ সালের নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির এত গভীর ছাপ রয়েছে যে পুরো প্যানেলই অসাংবিধানিক।
এই মন্তব্যের পরই তদন্ত আরও দ্রুত হয় কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে। কেন্দ্রীয় সংস্থা দাবি করেছিল—পর্ষদ সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর অনুমোদন ছাড়া কোনও নিয়োগ সম্ভব ছিল না।

পর্ষদ সভাপতির পদে ‘অবৈধভাবে থাকা’ নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল—
মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি সভাপতির পদ ছাড়েননি, বরং বেতন ও ক্ষমতা—দুটোই ব্যবহার করেছেন দীর্ঘদিন।
এই চার্জই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ইডির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠে।

পরবর্তী আইনি পথ কী?

হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর হলেও তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইডি ও সিবিআইয়ের মামলার শুনানি এখনও চলবে। জামিন মানে মুক্তি নয়—এ কথা আইনজীবীরা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ও জামিন পাওয়ায় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার ভবিষ্যৎ

এই মামলায় এখনো রয়েছে—

• OMR ত্রুটি
• দাগিদের তালিকা
• অভিজ্ঞতার নম্বর
• মেধাতালিকার অসংগতি
• ‘যোগ্য’ বনাম ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর বিতর্ক

কল্যাণময়ের মুক্তি সেই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশ্ন তুলছে—
দুর্নীতির মামলায় এখন কোন দিশায় এগোবে তদন্ত?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত