নজরবন্দি ব্যুরো: কল্যাণ রাজীবের মত ভালো দেখতে নয় কিন্তু আপনাদের পাশে থাকবে, আজকের ডোমজুড়ের সভা থেকে তৃণমূলকে জেতানোর আওহান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে তিনি তুলনা করলেন রাজীবের সঙ্গে। কিতাক্ষ করছেন বিজেপিকে এবং বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসী কী কী সুবিধা পাবেন তুলে ধরেছেন তার খতিয়ানও। মা বোনদের পকেট মানি টেহকে ছাত্রদের পড়াশোনাই সাহায্য, ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকার যা যা সুযোগ সুবিধা দেবেন সবকিছু উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলা, অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, উত্তপ বীরভূমের আমোদপুর।


তার পরই আক্রমণ করেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। শুভেন্দু অধিকারীর পরে পরে তৃণমূলের যেসব প্রথম সারির নেতা মন্ত্রীরা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাজীব বন্দোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বিজেপিতে নাম লিখিয়ে নিজের পুরনো কেন্দ্র থেকেই এবারের বিধানসভা নির্বাচন লড়ছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী। একদিকে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুর চড়াচ্ছেন নেতা মন্ত্রীরা, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ করছে তাঁদের নিয়ে। আগামী পরশু চতুর্থ দফার নির্বাচন। তার আগে আজ একদিক থেকে বলাগড় , শ্রীরামপুর হয়ে ডোমজুড়ে সভা করে বেহালাতে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বার বা জানিয়েছেন ডাক্তারের মানা সত্বেও নির্বাচনের গুরুত্ব বুঝে সভায় আসছেন তিনি। আর আজকের ডোমজুড়ের সভা থেকে বেনজির আক্রমণ করলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রীর আগেই সভা মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় রাজীব বন্দোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রবীর ঘোষালকে “দুর্নীতির ট্রায়ো” boel উল্লেখ করেছিলেন। তার পরই সরাসরি নাম করে এবং না করে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। দলত্যাগ করেই রাজীব বলেছিলেন বন দফতরের নিয়োগে দুর্নীতিতে করেছে রাজ্য সরকার, আজ তাঁরই কেন্দ্রে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলে এলেন, “আগে বুঝতে পারিনি, লম্বা চওড়া বেশ সুন্দর দেখতে।
কিন্তু ভেতরে এত প্যাচ ছিল বুঝিনি।” সঙ্গে তিনি এও বলেন সেচ দপ্তরে থাকা কালীন রাজীবের নামে উঠেছিল দুর্নীতির অভিযোগ, তাই তাঁকে সরিয়ে আনা হয়েছিল বনদপ্তরে, ” আগে ছিল সেচদপ্তরে, সেখান থেকে সরিয়ে ওকে বনমন্ত্রী করেছিলাম, কারণ সেচ দপ্তরে থাকাকালীন ওর বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগে পেয়েছিলাম।” এখানেই থেমে থাকেনি নি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অনেক টাকা করে রাজীব বন্দোপাধ্যায় কলকাতায় বাড়ি ঘর বানিয়ে সম্পত্তির বিস্তার ঘটিয়েছেন দুবাইয়েও। সেচমন্ত্রী থেকে আরো টাকা নয়ছয় করতো বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেশ কয়েকদিন আগেই রাজীব বন্দোপাধ্যায় যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। ঘাসফুলের দল ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে, প্রার্থী হয়েছেন নিজের পুরনো কেন্দ্রেই।


একাধিক বার সভা থেকে রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছেন। তবে আজকের তাঁরই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কল্যাণ ঘোষের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে “গদ্দারের জামানত বাজেয়াপ্ত” করার ডাক দিলেন, এই ক্ষোভ রাজীবের দলত্যাগের পরেও প্রকাশ করেননি তিনি। কল্যাণ ঘোষের সমর্থনে তিনি এও বলেন কল্যাণ রাজীবের মত দেখতে ততটা ভালো নয়, তবে আপনাদের পাশে থাকবে। বিজেপি হটানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ডোমজুড় থেকেও “একেক ভোট তৃণমূলে, একেক গোল বিজেপিকে” এর কোথাও বলেন। বলেন ডোমজুড় থেকে বিজেপিকে হটালে তিনি আবার আবেন সেখানে। মিষ্টি খাওয়াবেন সেখানের মানুষ জনকে।







