সই কাণ্ডের তদন্ত ও আদালত পর্বের মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন চর্চার জন্ম দিলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আর আইনি লড়াই লড়বেন না তিনি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর।
হাইকোর্টে সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসায় রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। এতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যার পর একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গিয়েছে, ওই মামলায় নতুন এক আইনজীবীর নাম সামনে আসার পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। যদিও এই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি এখনও সামনে আসেনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান আইনি মুখ হিসেবে পরিচিত। বিরোধী রাজনীতির সময় থেকে শুরু করে ক্ষমতায় আসার পরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলায় তিনি দলের হয়ে লড়েছেন।
সিঙ্গুর আন্দোলন, নন্দীগ্রাম পর্ব, রিজওয়ানুর রহমান মৃত্যু মামলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নানা মামলায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূলের পক্ষে আদালতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে মামলায় যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু নির্দিষ্ট একটি মামলা নয়, তৃণমূল-সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দলের অন্যতম অভিজ্ঞ আইনজীবীর এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে এই অবস্থান কতটা স্থায়ী হয় এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর পৌঁছায়, সেদিকেই নজর থাকবে।



