দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কাকদ্বীপ কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বিজেপি কর্মী নারায়ণ হালদার, যিনি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও। তাঁর বক্তব্য, “ধৃত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় এই কাজ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তিনি অনুতপ্ত।”
তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তা। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পনা করেই কাকদ্বীপে এই অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল।


মঙ্গলবার গভীর রাতে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার অন্তর্গত সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চন্দননগর নস্করপাড়ায় কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই সময় অচেনা কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং মূর্তি ভাঙার পর সেটি ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে এনে রেখে রাস্তা অবরোধ করে।
চোখের সামনে ধর্মীয় অবমাননা দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গ্রামবাসীদের দাবি, অবরোধে বিজেপি সমর্থকরাই নেতৃত্ব দেয়। তাঁদের হাতে লাঠি ও ইটপাটকেল ছিল বলে অভিযোগ। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এমনকি, এক পুলিশ কর্মীও ইটবৃষ্টিতে আহত হন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মা কালীর মূর্তি সুরক্ষিতভাবে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে। পুলিশের অনুরোধ, কেউ যেন গুজবে কান না দেন বা অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ান।


তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিজেপি প্রথমে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং চড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ধৃত ব্যক্তি তাঁদেরই এক কর্মী। এটা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ঘটেছে নাকি রাজনৈতিক প্ররোচনায়, সেটাও দেখা দরকার।”
অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার অভিযোগ করেছেন, “বিজেপি সারাজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। কাকদ্বীপেও সেই একই উদ্দেশ্য ছিল।”
বিজেপির অস্বস্তি:
মূর্তি ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স (X) হ্যান্ডলে পোস্ট করে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধৃত ব্যক্তি যে বিজেপিরই সক্রিয় কর্মী—এই তথ্য সামনে আসতেই তা বিজেপির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশের বক্তব্য স্পষ্ট:
পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, “তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধৃত নারায়ণ হালদার মদ্যপ অবস্থায় এই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ এখনও মেলেনি। আদালতের নির্দেশে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কালীমূর্তি ভাঙার মতো সংবেদনশীল ইস্যু ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়েছে। কাকদ্বীপের সাধারণ মানুষ এখন একটাই বার্তা দিচ্ছেন—“ধর্মের নামে হিংসা নয়, শান্তিই আসল পূজা।”







