নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুয়ারে রেশন নিয়ে শেষ হচ্ছে না জটিলতা, পরিস্থিতি সামলাতে নতুন মন্ত্রীর সঙ্গে আসরে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীও। বাংলায় মমতা জামানায় বারে বারেই সফল হয়েছে সরকার প্রণিত প্রকল্প গুলি। তা সে কন্যাশ্রী হোক বা দুয়ারে সরকার। সমান সাফল্য হয়েছে দলের প্রায় বেশিরভাগ স্লোগান। ২১ এর ভোটের আগে তৃণমূলের তরফে শুরু হয়েছিল দুয়ারে সরকার প্রকল্প। মানুষের সুবিধা অসুবিধা জানতে পাড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ কেরলের পর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র, দেশে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ


সেই প্রকল্পে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পর ভোট প্রচারেই মমতা জানিয়েছিলেন রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরলে শুরু করবেন দুয়ারে রেশন প্রকল্প। বলা ভালো ভোট ইস্তাহারে সব থেকে হাইলাইট হয়েছিল এই দুয়ারে রেশন এর কথা। বাংলায় তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেই মমতা সরকার শুরু করেছে এর কাজও।
তবে দুয়ারে রেশন নিয়ে জটিলতা বহু, বাদ সাধছেন খোদ ডিলাররাই। এই মূহুর্তে রাজ্যে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে কাজ চলছে এই প্রকল্পের। সরাকারের তরফে জানানো হয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে সব সামগ্রী। ডিলারদেরই গাড়ির খরচ, প্রচারের খরচ এবং সংরক্ষণের খরচ বহন করতে হবে। সঙ্গে এওই জানানো হয়েছিল এই কাজ সেপ্টেম্বরের জন্য, পরীক্ষা মূলক সময় পর্যন্ত। প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাকি সব দিক বিবেচনা করে পরিবহন এবং অন্যান্য খরচের দায় নেবে রাজ্য সরকার।
দুয়ারে রেশন নিয়ে জটিলতা, কোর্টে মমতার পাইলট প্রোজেক্ট।



তবে এই বিপুল খরচ আর বাড়ি গিয়ে রেশন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনায় আদপে খুশি নয় ডিলারদের একাংশ। সরকারের নির্দেশে খুশি না হয়ে মমতা সরকারের পাইলট প্রোজেক্ট কে সোজা নিয়ে গিয়েছে কোর্টের দরজায়। গত বুধ বার সিঙ্গল বেঞ্চ ডিলারদের দুয়ারে রেশন প্রকল্পের স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করে দেয়।

তবে নিজেদের দাবি এবং সিদ্ধান্তে অনড় ডিলাররা গতকালই সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জান্যে গিয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চে। অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন পুজোর রেশ থাকতে থাকতেই, ভাইফোঁটার পরে পরেই রাজ্য জুড়ে চালু করবেন দুয়ারে রেশন। পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে এবার সেই জট ছাড়াতে আসরে নেমেছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

সূত্রের খবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের সঙ্গে। আগামী সোমবার ফের তিনি বৈঠকে বসবেন ডিলারদের সঙ্গে, উপস্থিত থাকবে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রীও। ইতিমধ্যে সরকারের তরফে নোটিস দিয়ে ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি সহ একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নিজেদের খরচের খতিয়ান দেখিয়ে তাতেও খুশি নন ডিলাররা। জটিলতা প্রসঙ্গে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মাঠে নেমে আগে কাজ শুরু হোক। তারপরেই তো কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বোঝা যাবে। শুধু সমস্যাই দেখতে গেলে কোনও কাজ হবে না।








