বাংলা ছবির পর্দায় যিশু সেনগুপ্ত মানেই দর্শকের চোখে এক অন্য আবেগ। তাঁর ফিরে আসা মানেই সিনেমা হলে চেনা উত্তেজনার সঞ্চার। আর সে যদি হয় আবার নায়ক রূপে, তবে তো কথা নেই! বহু বছর পর বাংলা সিনেমায় নায়ক চরিত্রে ফিরছেন যিশু সেনগুপ্ত, আর তাও আবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের বিগ বাজেট ধর্মীয় ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’–তে ‘প্রভু নিত্যানন্দ’-এর চরিত্রে।
যিশু সেনগুপ্ত বাংলা ছবিতে ফেরায় উত্তেজনায় দর্শক


ছোট পর্দায় ‘শ্রীচৈতন্য’ হয়ে যিশু সেনগুপ্ত একসময় বাঙালির ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। পরে বলিউড ও দক্ষিণী ছবিতে সাফল্য পেয়েও বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন। মাঝে অভিনয় করেছেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে, কখনও খলনায়ক হিসেবেও নজর কেড়েছেন। তবে দীর্ঘদিন পর আবার যিশু সেনগুপ্ত বাংলা ছবিতে নায়ক রূপে ফিরছেন, এমন খবরেই চাঞ্চল্য টলিপাড়ায়।
ইন্দ্রদীপের ছবিতে যিশুর নায়ক রূপে কামব্যাক
পরিচালক ও সুরকার ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের পরিচালনায় তৈরি হতে চলা একটি নতুন বাংলা ছবিতে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে। ইতিমধ্যেই ইন্দ্রদীপের সাম্প্রতিক ছবি ‘গৃহপ্রবেশ’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। সেই ছবির সাফল্য কাটিয়ে উঠেই আগামী বছরের শুরুতে শুটিং শুরু করতে পারেন পরিচালক।


যিশু সেনগুপ্ত বাংলা ছবিতে আবার নায়ক হয়ে ফিরছেন, এই তথ্য যতটা আনন্দের, ততটাই আলোচনারও। সূত্র বলছে, বহু বছর আগেই এই চরিত্রে যিশুকেই প্রথম ভাবা হয়েছিল, পরে সেটা যেতু কমলের ঝুলিতে যায়।
প্রযোজনায় যিশু ও সৌরভ দাসের নতুন উদ্যোগ
এবার শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন যিশু সেনগুপ্ত। অভিনেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুলেছেন একটি নতুন প্রযোজনা সংস্থা ‘হোয়াই সো সিরিয়াস’। এই সংস্থার অন্যতম ‘মেন্টর’ বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক মহেশ ভট্ট।
গুঞ্জন ছড়িয়েছে, মহেশ ভট্ট আবার পরিচালনায় ফিরতে পারেন যিশু-সৌরভের ব্যানারে। তাঁদের প্রথম প্রযোজনা হতে পারে একটি হিন্দি ছবি, যার চিত্রনাট্য নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ চলছে। তবে ‘নিত্যানন্দ’-এর ছবিটি তাঁদের প্রযোজনা নয় বলেই খবর।
সৃজিতের ছবিতে যিশু হচ্ছেন ‘নিত্যানন্দ’
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ একটি ঐতিহাসিক ধর্মনির্ভর ছবি। এই ছবিতেই যিশু সেনগুপ্তকে দেখা যাবে ‘প্রভু নিত্যানন্দ’-এর চরিত্রে। এই চরিত্রে তাঁকে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বসিত তাঁর ভক্তরা। একদিকে বলিউডে অভিনয়, অন্যদিকে বাংলা ছবির পর্দায় এমন ঐতিহাসিক চরিত্র—এই দ্বৈত ভূমিকায় যিশু যে আবার নিজের সেরা ফর্মে ফিরছেন, তেমনই আশা করছেন সিনে-অনুরাগীরা।
শেষ কথা
দর্শক চায়, যিশু সেনগুপ্ত বাংলা ছবিতে আবারও বারবার ফিরে আসুন, আরও নানা ধরনের চরিত্রে। ‘নিত্যানন্দ’ রূপে তাঁর ফিরে আসা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শুধু অভিনেতা নয়, প্রযোজক হিসেবেও তাঁর ভবিষ্যৎ যাত্রা কি বাংলা ছবিকে নতুন দিশা দেখাবে? এখন সেই দিকেই নজর সকলের।







