রশ্মিকাকে ‘তামিল অভিনেত্রী’ বলেই বিপাকে জাভেদ আখতার! পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কটাক্ষের মুখে গীতিকার

রশ্মিকা মন্দানার হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অভিনেত্রীকে ‘তামিল’ বলে উল্লেখ করেন জাভেদ আখতার। সমাজমাধ্যমে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর নিজের বক্তব্য সংশোধন করে ক্ষমা চাইলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানার হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই ভুল তথ্য দিয়ে বসলেন বর্ষীয়ান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)। রশ্মিকাকে ‘তামিল অভিনেত্রী’ বলে উল্লেখ করতেই তাঁর ভাষাগত পরিচয় নিয়ে আপত্তি তোলেন নেটাগরিকদের একাংশ। রশ্মিকা কর্নাটকের কোডাগুর বাসিন্দা এবং মূলত কন্নড় ও তেলুগু ছবির সঙ্গে যুক্ত—এই তথ্য মনে করিয়ে দেওয়া হলে ভুল স্বীকার করেন জাভেদ। পরে সমাজমাধ্যমে ক্ষমাও চান তিনি।

রশ্মিকার হিন্দি বলার ধরন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘কফি উইথ করণ’ (Koffee With Karan) অনুষ্ঠানের নবম সিজনে স্বামী বিজয় দেবরকোন্ডার (Vijay Deverakonda) সঙ্গে উপস্থিত হয়ে নিজের উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী। দক্ষিণ ভারত থেকে আসার কারণে তাঁর কথায় আঞ্চলিক টান থাকতেই পারে, সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখা কেন—সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

এই বিতর্কের মধ্যেই রশ্মিকার পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন জাভেদ। যাঁরা অভিনেত্রীর উচ্চারণ নিয়ে আপত্তি তুলছেন, তাঁদের তামিল ভাষায় কয়েকটি বাক্য বলতে দিয়ে নিজেদের উচ্চারণের দক্ষতা যাচাই করার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। অন্যের ভাষাগত দক্ষতা নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মনোভাব দেখানোরও সমালোচনা করেন বর্ষীয়ান লেখক।

কিন্তু সেই পোস্টেই রশ্মিকাকে ‘তামিল অভিনেত্রী’ বলে উল্লেখ করায় আপত্তি ওঠে। নেটাগরিকেরা জানান, রশ্মিকার জন্ম কর্নাটকের কোডাগুতে। তিনি কন্নড়ভাষী এবং তেলুগু চলচ্চিত্রে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তামিল, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষার ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী জাভেদকে মনে করিয়ে দেন, রশ্মিকা কোডাগুর মেয়ে এবং তেলুগুভাষী পরিবারের পুত্রবধূ। রশ্মিকার পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাভেদের বক্তব্যকে সমর্থন করলেও তাঁর ভাষাগত পরিচয় সম্পর্কে ভুলটি সংশোধন করেন ওই ব্যবহারকারী। জবাবে জাভেদ লেখেন, “I stand corrected”—অর্থাৎ, ভুল সংশোধন করে নিচ্ছি।

এর পর নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন জাভেদ। তিনি জানান, রশ্মিকাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন না। তাঁর অভিনীত যে ছবিটি তিনি দেখেছেন, সেটি তামিল ভাষার ছবি ছিল বলেই হয়তো এই ভুল হয়েছে। তবে তামিল, তেলুগু, মালয়ালম কিংবা কন্নড়—কোন ভাষায় কেউ কথা বলছেন, সেটি তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় নয় বলে জানান তিনি।

জাভেদের বক্তব্য, কেউ অন্যের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর উচ্চারণে আঞ্চলিক টান থাকলেও সেটিকে সম্মান করা উচিত। ইংরেজি বলার সময় ভারতীয়দের উচ্চারণ নিয়ে কোনও ইংরেজ ব্যক্তি বিদ্রূপ করলে কেমন লাগবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, উচ্চারণের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে কাউকে ছোট করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

রশ্মিকার ভাষাগত পরিচয় নিয়ে এই বিতর্কে সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ জাভেদের মূল বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন—ভাষার উচ্চারণ নিয়ে কাউকে অপমান করা উচিত নয়। অন্যদের বক্তব্য, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। সেই পার্থক্য না বুঝে একজন অভিনেত্রীকে ভুল ভাষার পরিচয়ে চিহ্নিত করা অনুচিত।

কন্নড়, তেলুগু, তামিল ও হিন্দি—বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন রশ্মিকা। তাঁর হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। তবে নিজের আঞ্চলিক উচ্চারণকে লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন দেখেন না অভিনেত্রী। ‘কফি উইথ করণ’-এও তিনি জানিয়েছিলেন, ভাষা বা উচ্চারণের কারণে নিজের কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখতে চান না।

রশ্মিকার উচ্চারণ নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক তাই শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে ভাষাগত পরিচয়, আঞ্চলিক বৈচিত্র এবং অন্যের ভাষায় কথা বলার সময় ভুলকে কী ভাবে দেখা উচিত—সেই প্রশ্নে। রশ্মিকার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে গিয়ে জাভেদের নিজের ভুল স্বীকারের ঘটনাও এখন আলোচনার অংশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর