জশপ্রীত বুমরাহ মানেই ধারালো ইয়র্কার, ভয়ংকর স্পেল আর উইকেটের ঝড়। কিন্তু এবার সেই বুমরাহই নেটদুনিয়ায় আলোচনায় এক অদ্ভুত পরিসংখ্যানের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটে ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং গড় যেখানে ৯৯.৯৪, সেখানে বুমরাহর এক মরশুমের বোলিং গড় ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে ‘উলটো ডন ব্র্যাডম্যান’ বিতর্ক।
ক্রিকেটে সাধারণত ১০০-র কাছাকাছি গড় মানেই ব্যাটিং কিংবদন্তির পরিচয়। কিন্তু কোনও বোলারের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা একেবারেই ব্যতিক্রমী। আর সেই কারণেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের তারকা পেসার জশপ্রীত বুমরাহ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিসংখ্যানের পিছনে রয়েছে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের অতিরিক্ত সতর্ক মনোভাব। বুমরাহকে আক্রমণ না করে অনেক ব্যাটারই ধীরে রান তোলার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তিনি তুলনামূলক কম রান দিলেও উইকেটের সংখ্যা প্রত্যাশামতো বাড়েনি।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের অন্য বোলারদের পারফরম্যান্স। মুম্বইয়ের অন্যান্য বোলারদের বিরুদ্ধে তুলনায় বেশি রান ওঠায় ব্যাটাররা বুমরাহর স্পেল সামলে খেলার কৌশল নিয়েছিলেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
২০১৩ সালে আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন বুমরাহ। ধারাবাহিকতা, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন।
বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি মরশুমেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে ২০ উইকেট, ২০২০ সালে ২৭ উইকেট এবং ২০২১ সালে ২১ উইকেট নিয়ে নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছিলেন এই ভারতীয় পেসার।
পরবর্তী মরশুমগুলোতেও সেই ছন্দ বজায় ছিল। ২০২৪ সালে ২০ উইকেট এবং ২০২৫ সালে ১৮ উইকেট নিয়ে তিনি আবারও নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। সেই জায়গা থেকে হঠাৎ এক মরশুমে মাত্র ৪ উইকেট পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটমহলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে বুমরাহর প্রভাব বিচার করা কঠিন। কারণ, অনেক সময় তাঁর উপস্থিতিই ব্যাটারদের রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করে, যা দলের অন্য বোলারদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।
তবু এই বিরল বোলিং গড় এখন বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, আধুনিক ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা বোলারদের ক্ষেত্রেও এমন পরিসংখ্যান সচরাচর দেখা যায় না।



