মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনাকে আশ্রয় কেন? ভারতকে নিশানা জামাতের

আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ভারতকে নিশানা করে তোপ জামাত ও প্রাক্তন সেনা কর্তা হাসিনুর রহমানের। না ফেরালে ‘ভারত-বিরোধী জঙ্গি আশ্রয়ের’ হুঁশিয়ারি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। রায়ের পরপরই ভারতের প্রতি তীব্র কটাক্ষ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত “পলাতক আসামি”কে ভারত আশ্রয় দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এই ইস্যু ঘিরে কূটনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

জামাতের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবেশী দেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছে। এটি ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইন—দুটোই লঙ্ঘন।” তিনি দিল্লির উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে পাঠানো হোক।”

জামাতের দাবি, ট্রাইবুনালের বিচার ছিল স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের। তাদের বক্তব্য, জনগণ বহুদিন ধরে এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন। পরওয়ার বলেন, “এ রায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, এটি প্রমাণ করেছে—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনাকে আশ্রয় কেন? ভারতকে নিশানা জামাতের

তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যা, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম, আয়নাঘর এবং ক্রসফায়ারে হত্যার মতো অপরাধেরও দ্রুত বিচার হওয়া উচিত। তার অভিযোগ, আওয়ামি লিগ জনগণের প্রতিরোধের সামনে কোথাও দাঁড়াতে পারেনি। তার কথায়, “ফ্যাসিবাদীদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই।”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনাকে আশ্রয় কেন? ভারতকে নিশানা জামাতের
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনাকে আশ্রয় কেন? ভারতকে নিশানা জামাতের

এই বক্তব্যের পাশাপাশি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জামাতপন্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান। তাঁর দাবি, ভারত যদি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠায়, তবে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া হবে। এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হাসিনুর বলেন, “যদি ভারত সহযোগিতা না করে, আমরা ভারতের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেব। ভারত শান্তিতে থাকতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ ১,৪০০ মানুষের রক্তের ন্যায়বিচারের জন্য এই রায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তিনি বলেন, “আমার নিজের গুম হওয়া, নির্যাতনের ইতিহাস আছে। আজকের রায় আমাদের জন্য আশীর্বাদ। রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাব না।”

সাবেক সেনা কর্তার মতে, মহম্মদ ইউনুসই হতে পারেন হাসিনাকে আইনের মুখোমুখি আনার উপযুক্ত নেতা। তিনি বলেন, “বিদেশে থাকলেও ইউনুস সাহেব আইনি সাহায্যে হাসিনাকে দেশে ফেরাতে পারবেন। এর জন্য ভারতীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন, বিশেষত পশ্চিম বাংলার মানুষের।”

হাসিনুরের মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ভারত কী অবস্থান নেবে। ভারত এখনো সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি। দিল্লির পররাষ্ট্র মহল পরিস্থিতি “সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে।

এদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে EPIC, NRC, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতে আগেই সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের সম্পর্কও এই মন্তব্যে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখে পড়ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে নিয়ে ভারতকে সরাসরি আঙুল তুলেছে জামাত। তাদের দাবি, “ভারত আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে একজন পলাতককে আশ্রয় দিচ্ছে।”

এই ইস্যু আগামী কয়েক দিনে কূটনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সীমান্ত নিরাপত্তা—সবক্ষেত্রেই বড় আলোচনার বিষয় হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত