নজরবন্দি ব্যুরো: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করছে রাজ্য সরকার! ফের বিতর্কিত মন্তব্য ধনখড়ের। রাজ্যে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই রাজভবন-নবান্ন মুখোমুখি সংঘাতে। দুই সাংবিধানিক প্রধানের সংঘাতের জেরে বিধানসভা ভোটের হাওয়া ধীরে ধীরে তপ্ত হয়ে উঠছে। এমন আবহে ফের একবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে টুইট যুদ্ধে নেমে পড়লেন।
আরও পড়ুনঃ ২২ কিলোমিটার বেহাল রাস্তা! অবিলম্বে না সারালে ভোট বয়কট হরিশ্চন্দ্রপুরে।


রবিবারের টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘রাজ্যে মানবাধিকারের টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও পঙ্গু হতে দেওয়া যাবে না।’সাম্প্রতিক সময়ে টুইটে একাধিকবার রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যপাল। রাজ্য প্রশাসনের স্তরে বেনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে ধনকরকে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজি) দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই পাল্টা জবাবি চিঠিও রাজভবনে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঠিকভাবে রাজ্যপাল তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন না বলেই চিঠিতে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই চিঠি হাতে পাওয়ার পরেই সাংবাদিক বৈঠকও করেন রাজ্যপাল। সেদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগে সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল ধনকরকে।
এমনকী তাঁকে তাঁর দায়িত্বের পাঠ দেওয়ারও ইচ্ছাপ্রকাশ করেন রাজ্যপাল। এছাড়া চাঁচাছোলা ভাষায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও আক্রমণ করেন জগদীপ ধনকড়। তবে তারপরেও থামেননি তিনি। একাধিকবার টুইটে রাজ্যের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যপাল। বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে রাজভবন -নবান্ন সংঘাত খালি চোখে ধরা পড়েছে। উত্তরবঙ্গে রাজ্যপালের প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের গড়হাজিরা থেকে শুরু করে, রাজ্য সড়কের বেহাল দশা, শিক্ষাঙ্গনে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ, রাজ্যপালের হেলিকপ্টার না পাওয়া খুঁটিনাটি সমস্ত ইস্যুতে রাজ্যপালের নিশানা হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন।


বিগত বাম আমলের শেষের দিকে চোখ ফেরালে দেখা যাবে, রাজ্যপাল- মহাকরণ সংঘাতে বাম নেতা মন্ত্রীরা রাজ্যপালের ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে দুই সাংবিধানিক প্রধানের সম্পর্কে ফাটল আরও কতটা চওড়া হয়ে উঠবে তা সময়ই বলবে।








