তেহরান-জেরুজালেম সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইজরায়েলের পরপর আক্রমণে এবার নিহত হলেন ইরানের যুদ্ধকালীন সেনা সর্বাধিনায়ক আলি শাদমানি (Ali Shadmani)। ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই মৃত্যুর ফলে ইরান সামরিক কৌশলে বিশাল ধাক্কা খেল।
গত ১৩ জুন, ইরানের পূর্বতন সেনাপ্রধান গোলাম আলি রশিদ নিহত হন ইজরায়েলের বিমান হামলায়। তার পরে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শাদমানি। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তিনিও নিহত হলেন। ইজরায়েলি সেনার মতে, শাদমানি হলেন এখনও পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ সেনাকর্তা, যিনি তাদের হামলায় প্রাণ হারালেন।


পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ‘নিখুঁত’ হামলা
শুধু শাদমানি নন, ইজরায়েলের গত শুক্রবারের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ইরানি সামরিক ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন—
ইরান সেনার চিফ অফ স্টাফ মহম্মদ বাঘেরি,


রেভোলিউশনারি গার্ডস কমান্ডার হোসেন সালামি,
ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ড প্রধান এবং
৯ জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স-এর মতে, ইরান এতজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে একসঙ্গে হারিয়ে কৌশলগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইজরায়েলের যুক্তি: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই
ইজরায়েলের দাবি, ইরান পরমাণু বোমার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা বাধ্য হয়েই এই প্রস্তুতিমূলক আক্রমণ চালিয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া বা স্বীকারোক্তি আসেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল
এই ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমে। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এই হামলা তৃতীয় পক্ষীয় যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।








