অবশেষে স্বস্তি! শান্তি চুক্তির জল্পনায় খুলতে পারে হরমুজ, বড় দাবি ইরানের

ইরান-আমেরিকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালী খুললে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার টানা সামরিক উত্তেজনার মাঝেই সামনে আসছে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও বৃহত্তর সমঝোতার একটি খসড়া চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হরমুজে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথগুলির মধ্যে অন্যতম এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা কাঠামোয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয় রয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, প্রস্তাবিত সমঝোতায় মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল করা, ইরানের কিছু জব্দ অর্থ মুক্ত করা এবং ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক স্বাভাবিকতা ফেরানোর বিষয় রয়েছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, প্রাথমিক কাঠামোয় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়— যদিও এই দাবি নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের তরফেও সতর্ক বার্তা এসেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কোনও তাড়াহুড়ো করা হবে না এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ ও হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা গিয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। আলোচনার খসড়া, শর্ত এবং বাস্তবায়ন— সব কিছু নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির আশা তৈরি হলেও পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ সমীকরণ এখনো নির্ভর করছে কূটনৈতিক আলোচনার পরবর্তী ধাপের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন