খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার ভয়ানক জবাব দিল ইরান, জ্বলছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তৈলভান্ডার

ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর ৯০টির বেশি হামলার পরই পাল্টা আঘাত। অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজেইরা বন্দরের তৈলভান্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানল তেহরান। অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূলীয় শহর ফুজেইরার তেলভান্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর তেল সংরক্ষণাগার থেকে আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। যদিও আমিরশাহি প্রশাসন এই হামলার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি।

এর আগে শনিবার ভোরে ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী বড়সড় আঘাত হানে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। তাদের প্রকাশ করা ভিডিও এবং বিবৃতি অনুযায়ী, দ্বীপটির অন্তত ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই অভিযানে ইরানের নৌবাহিনীর একাধিক মাইন মজুতকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোও ধ্বংস করা হয়েছে।

খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার ভয়ানক জবাব দিল ইরান, জ্বলছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তৈলভান্ডার

খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার ভয়ানক জবাব দিল ইরান, জ্বলছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তৈলভান্ডার
খার্গ দ্বীপে শনিবার ভোরে হামলার ছবি প্রকাশ করল আমেরিকার সামরিক বাহিনী।

তবে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দ্বীপটির তেল সংরক্ষণ বা রফতানি সংক্রান্ত স্থাপনাগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করা হয়নি। কারণ খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৬ কিলোমিটার। আকারে ছোট হলেও জ্বালানি তেল রফতানির ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই রফতানির আগে এই দ্বীপে পৌঁছায়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এনে এখানে সংরক্ষণ করা হয় এবং গভীর সমুদ্রের সুবিধা থাকায় এখান থেকেই বড় ট্যাঙ্কারে করে তেল রফতানি করা সহজ হয়।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে, শনিবার খার্গ দ্বীপে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, তাঁর নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং খার্গ দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলি কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আপাতত দ্বীপের তেল সংরক্ষণাগার ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আমেরিকা তার অবস্থান বদলাতে পারে।

এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ফুজেইরার তেল সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একের পর এক বিস্ফোরণে বন্দরের কাছে থাকা তেলভান্ডারে আগুন ধরে যায়।

যদিও আমিরশাহির প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার কথা স্বীকার করেনি। তাদের দাবি, একটি দুর্ঘটনার জেরেই তেলভান্ডারে আগুন লাগে। তবে কোন সংরক্ষণাগারে আগুন লেগেছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত