ইরানে গণবিক্ষোভ দমনের নামে যা ঘটছে, তা আর নিছক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গল্প নয়—এ এক ভয়ঙ্কর মানবিক বিপর্যয়ের ছবি। দেশের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ‘হাজারের কাছাকাছি’ বলে দাবি করেছেন, সেখানে মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন গোপন রিপোর্ট বলছে—প্রকৃত সংখ্যা ১৬ হাজারেরও বেশি হতে পারে। রাজপথে ‘মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগান কিছুটা স্তিমিত হলেও, বন্দিশিবির ও কারাগারের ভিতরে যে নৃশংসতা চলছে, তা শিউরে ওঠার মতো।
ইরান থেকে পাচার হওয়া ভিডিও, ফোন কল, এমনকি স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে পাঠানো খণ্ড খণ্ড বার্তায় উঠে আসছে ভয়াবহ সব অভিযোগ। বন্দিদের নগ্ন করে হাড়হিম ঠান্ডায় ফেলে রাখা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় খাবার ও চিকিৎসা ছাড়া আটকে রাখা হচ্ছে। আরও মারাত্মক অভিযোগ—জেলের ভিতর বন্দিদের শরীরে বিষাক্ত পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই নির্যাতন কল্পনাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।


বাইরে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কালো ব্যাগে মোড়ানো মৃতদেহ স্তূপ করে রাখা হচ্ছে স্ট্রেচারে। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও থানায় থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন পরিবারগুলি। এই দৃশ্যগুলোই খামেনেই প্রশাসনের দমননীতির সবচেয়ে নির্মম দলিল হয়ে উঠছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইরানে যে খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, তাকে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর সবচেয়ে শক্তিশালী গণবিদ্রোহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে অর্থনীতির ভেঙে পড়া অবস্থা, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেই সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়।
এই বিক্ষোভ দমনে প্রশাসন যে কঠোর পথে হেঁটেছে, তার ফলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে Iran সরকার। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।


সব মিলিয়ে, ইরানে এখন প্রশ্ন একটাই—এই দমন-পীড়নের প্রকৃত মূল্য কত, আর কতটা রক্ত ঝরলে থামবে এই নৃশংস অধ্যায়?







