ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের মাঝেই ইরানের একটি জাহাজে মার্কিন টর্পেডো হামলার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে অন্তত ৭৮ জন নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। একই সময়ে তেহরানের আকাশে ইজরায়েলি বায়ুসেনা রুশ-নির্মিত ‘ইয়াক-১৩০’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এই সংঘাত কি এবার ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে?
সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের অত্যাধুনিক F-35I ফাইটার জেট তেহরানের আকাশে অভিযান চালিয়ে ইরানের একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের যুদ্ধবিমানের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও F-35 যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধে অন্য একটি যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করল। প্রায় চার দশক পর আবারও আকাশপথে সরাসরি যুদ্ধের মুখোমুখি হল ইজরায়েলি বাহিনী।

এর আগে ১৯৮৫ সালে লেবাননের আকাশে সিরিয়ার দুটি মিগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইজরায়েল। সেই ঘটনার পর এত বছর পর আবারও এমন আকাশযুদ্ধের ঘটনা সামনে এল। তেহরানের আকাশে এই অভিযানের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন B-1 এবং B-2 বোমারু বিমানের হামলায় ইরানের একটি সাবমেরিন-সহ মোট ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে ইরানের নৌবাহিনী কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের প্রভাব কমাতেই এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও আরব সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।


এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই লেবাননে ইজরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার লেবাননের বালবেক শহরের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একদিনে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হিজবুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হলেও সাধারণ বসতবাড়িতে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণে ব্যাপক শক্তি ব্যবহার করেছে বলে দাবি উঠেছে। সূত্রের খবর, ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ২০০০ ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Activists News Agency (HRANA)-র তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইরানে নিহত হয়েছেন ১০৯৭ জন সাধারণ নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ১৮১ জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫৪০০ মানুষ।
ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।








