মূল্যবৃদ্ধির নতুন আশঙ্কা! জ্বালানির দাম ও কম বৃষ্টির পূর্বাভাসে সতর্ক করল কেন্দ্র

জ্বালানির উচ্চ মূল্য, টাকার দুর্বলতা এবং কম বৃষ্টির সম্ভাবনা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সাধারণ মানুষের সংসারের খরচ আরও বাড়তে পারে— এমনই ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। মে মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা আগামী দিনে মূল্যস্ফীতির উপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দপ্তরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতির ভিত এখনও শক্তিশালী। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দুর্বল অবস্থান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দুর্বল বর্ষা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চ দাম এবং টাকার মূল্যহ্রাস উৎপাদন ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হলে কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে।

আগামী ৫ জুন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার কথা। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ডলারের তুলনায় টাকার দর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

যদিও এপ্রিল মাসে খুচরো মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নীচে ছিল, তবুও পাইকারি মূল্যস্ফীতির দ্রুত বৃদ্ধি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর অর্থ উৎপাদকদের খরচ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে সেই অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি গত মাসে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) এক বছরে ৮.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৩.৮৮ শতাংশ।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যেই পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের মূল্যে পড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ চাহিদা কমে গেলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিও মন্থর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বার্তা স্পষ্ট— আপাতত অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত থাকলেও জ্বালানির দাম এবং বর্ষার পরিস্থিতির উপর আগামী কয়েক মাসের মূল্যস্ফীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। আর তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের মাসিক সংসার খরচের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

আরও খবর