প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বড় ধাক্কা! তোলাবাজির মামলায় আগাম জামিন খারিজ, যে কোন সময় হতে পারেন গ্রেফতার

চন্দননগরের ঠিকাদারের দায়ের করা তোলাবাজি ও প্রতারণার মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিন খারিজ। আদালতের সিদ্ধান্তে তদন্তে নতুন গতি আসার ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও চন্দননগরের (Chandannagar) প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত। মঙ্গলবার চুঁচুড়ার প্রথম দায়রা আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের এই নির্দেশের পর প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

মামলার সূত্রপাত গত ৪ জুলাই। চন্দননগর থানায় এক ঠিকাদার প্রদীপ দে অভিযোগ দায়ের করেন যে, তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং অন্যের টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এই একই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন চন্দননগর কর্পোরেশনের (Chandannagar Municipal Corporation) প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগারওয়াল (Munna Agarwal)। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে তাঁর জামিনের আবেদনও নাকচ করে আদালত। তদন্তে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

হুগলি (Hooghly) জেলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তোলাবাজির অভিযোগে এর আগেই প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র এবং কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার শৈবাল রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করায় তাঁকে গ্রেপ্তারে আইনি বাধা আর নেই বলে দাবি করেন তিনি। আদালতে সরকারি পক্ষ ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের বিরোধিতায় জোরালো সওয়ালও করে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, চন্দননগর বিধানসভা উৎসবের নামে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এই অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে আসে। শিল্পী মহলের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ না হলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার তোলাবাজির মামলায় আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

তবে এই মামলায় ওঠা সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ কবে এবং কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন