ভেনেজ়ুয়েলার রাজনৈতিক টানাপড়েন যখন আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই প্রথম বার প্রকাশ্যে অবস্থান নিল ভারত। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনীর অপহরণের ঘটনার পর রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হল—ভেনেজ়ুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নয়া দিল্লি ‘গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং দেশের বাসিন্দাদের সুরক্ষা ও স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে ভারতের সমর্থন অটুট থাকবে।
এদিন দুপুরে জারি হওয়া বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতির উপর ভারত নিবিড় নজর রাখছে। পাশাপাশি, সংঘাত বা বলপ্রয়োগ নয়—আলোচনার মাধ্যমে এবং শান্তিপূর্ণ পথে সমস্যার সমাধানের উপরই জোর দিয়েছে নয়া দিল্লি। বিবৃতিতে উল্লেখ, “ভেনেজ়ুয়েলার বাসিন্দাদের সুরক্ষা এবং হিতার্থে ভারতের সমর্থন অটুট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গোটা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছে ভারত।”
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগেই ভেনেজ়ুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। শনিবার রাতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন ভারতীয়রা ভেনেজ়ুয়েলায় যাতায়াত না করেন। সে দেশে থাকা ভারতীয়দের চলাফেরা সীমিত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।
সেই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ই-মেল আইডি ও ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়। রবিবারের বিবৃতিতেও ফের এক বার ভারতীয় নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের তরফে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই কূটনৈতিক অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনা। শনিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে মার্কিন বাহিনী। অভিযোগ, গভীর রাতে মাদুরোর শোয়ার ঘর থেকেই তাঁকে আটক করা হয়। হেলিকপ্টারে প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে এবং সেখান থেকে সরাসরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের।


রবিবার সকালে ভারতীয় সময় অনুযায়ী নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন ক্যাম্পে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি রাখার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেই সঙ্গে বন্দি অবস্থার ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। আটক হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মাদুরো মাত্র পাঁচটি শব্দ উচ্চারণ করেন—“গুড নাইট। হ্যাপি নিউ ইয়ার।”
ইতিমধ্যেই আমেরিকার এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার মতো একাধিক দেশ। আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ভারতের এই সংযত কিন্তু স্পষ্ট বার্তা—শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা—গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।










