পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ভেদে এস-৪০০ ছিল, এবার এস-৫০০ আনছে ভারত! ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার রাশিয়ার সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৫০০ ট্রায়াম্ফ-এম ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিতে চলেছে মস্কো। ২০২১ সালে রুশ সেনায় অন্তর্ভুক্ত এই প্রযুক্তিকে প্রথমবার রফতানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ভারতকেই।
এর আগে এস-৪০০ ব্যবহারে ভারতের অভিজ্ঞতা বেশ সফল। বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুর-এর পরে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে এস-৪০০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এবার সেই ব্যবস্থার আরও উন্নত সংস্করণ হতে চলেছে এস-৫০০।


পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ভেদে এস-৪০০ ছিল, এবার এস-৫০০ আনছে ভারত!

কী আছে এস-৫০০-এর ঝুলিতে?
এস-৫০০ আদতে এক ধরনের ইন্টার-কন্টিনেন্টাল অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এটি ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং শত্রুপক্ষের ড্রোন, বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে মুহূর্তে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পাল্লা ৬০০ কিলোমিটার, যা এস-৪০০-এর ৪০০ কিমির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
৬০০ কিমি দূরের শত্রুও রক্ষা পাবে না, রাশিয়ার এস-৫০০ পাচ্ছে ভারতীয় সেনা
এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তি হস্তান্তরের দিকেও এগোচ্ছে ভারত। এস-৪০০-এর ক্ষেত্রেও ভারত নিজস্ব উৎপাদনে অংশ নিয়েছে। এবার এস-৫০০ নিয়েও সেই রাস্তাতেই হাঁটছে দুই দেশ। এটি ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতার এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
ভারতীয় সেনার জন্য আসছে এস-৫০০, রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা
বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, চীন ও পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক অবস্থান ভারতকে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বেষ্টনি গড়তে বাধ্য করেছে। ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি আগেই এসেছে। সেই দিক থেকে এস-৫০০ প্রতিরক্ষা চূড়ান্ত স্তর যোগ করবে ভারতের নিরাপত্তায়।


এটি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রাশিয়ার কাছ থেকে এই প্রযুক্তির প্রথম রফতানি হিসাবে ভারতের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক।
ভারতীয় সেনার জন্য আসছে এস-৫০০, রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা

পাকিস্তানের হামলা ও ভারতীয় প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ছাড়াও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা থাকা কতটা জরুরি। এস-৫০০ সেই কাজেই নিঃসন্দেহে উপযোগী হবে। অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি উপগ্রহ, হাইপারসনিক মিসাইল বা স্টিলথ বিমানের মতো জটিল লক্ষ্যের দিকেও সাড়া দিতে পারে।







