আমেরিকার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে ভারতের অবস্থান ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। প্রথমে আমন্ত্রণ পেলেও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি নয়াদিল্লি। কিন্তু বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থান বদলের ইঙ্গিত—এবার ওই বোর্ডে যোগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ভারত, জানাল বিদেশমন্ত্রক।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, গাজার জন্য প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে ভারত অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনও ভাবনাচিন্তা চলছে। তাঁর কথায়, গাজা-সহ গোটা এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সব উদ্যোগকেই ভারত সমর্থন করে।


উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে এই ‘বোর্ড অফ পিস’-এর ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু সেই সময় ভারতের কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে মনে করা হয়েছিল, প্রস্তাবটি কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
শুধু ভারত নয়, পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশও ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তবে দাভোসের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ট্রাম্পের কাছাকাছি আসনে বসে দুই নেতাকে কথাবার্তা বলতেও দেখা যায়।
এর কিছুদিন পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই ঘোষণার পরই বোর্ড অফ পিসে যোগ দেওয়া নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ভারত। কারণ, ওই বোর্ডে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।


ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাণিজ্যচুক্তির পর কূটনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে কি? ভারতের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেই কি এই বোর্ডে যোগ দেবে নয়াদিল্লি, নাকি নতুন বাস্তবতায় কৌশল বদলাবে—এখন নজর সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।







