হরমুজ বন্ধ হলে থমকে যাবে ভারত? ইরান যুদ্ধের জেরে তেল-সংকটের আশঙ্কা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে ভারতের তেল আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ৭৪ দিনের মজুত থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বাড়তে পারে সংকট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন শুধু আঞ্চলিক সীমান্তেই আটকে নেই—তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়তে পারে ভারতের রান্নাঘর, পেট্রল পাম্প আর শিল্পকারখানায়। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম ‘হরমুজ প্রণালী’। এই জলপথ দিয়ে যদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ দেশের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে এই রুট দিয়ে।

বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের প্রায় ২০–২২ শতাংশ পরিবহণ হয় ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মাঝের সরু জলপথ—হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও বিশ্ববাজারে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

🛢️ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই রুট?

হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারত যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তা দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে। সেই তেল শোধনাগারে প্রক্রিয়াকরণের পর তৈরি হয় পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন। এলপিজি-ও আসে এই উৎস থেকেই।

যানবাহন থেকে রান্নাঘর, বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে রাস্তা নির্মাণ—অশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় প্রতিটি খাত। ফলে এই রুট বন্ধ হলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহণ, শিল্প ও গৃহস্থালিতে।

⏳ কত দিন সামলাতে পারবে ভারত?

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ভারতীয় শোধনাগারগুলির কাছে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই মজুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ নেই।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিকল্প উৎসের উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। সেই ক্ষেত্রে রাশিয়া-সহ অন্য দেশ থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

💸 দামই বড় চিন্তা

সরবরাহ ব্যাহত হোক বা না হোক, যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ফলে দেশের ভিতরেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়বে পরিবহণ খরচ ও নিত্যপণ্যের দামে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি এখন ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজরকেন্দ্র। যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হয় এবং জলপথ খোলা থাকে কি না—তার উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের জ্বালানি সমীকরণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত