২৪ নভেম্বরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতের পাখির চোখ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ—এই জল্পনার উৎস প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব পাকিস্তানের এই প্রদেশ ভারতের সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাঁর কথায়, সিন্ধ আজ ভারতের অংশ না হলেও “সীমান্ত পরিবর্তন” অস্বাভাবিক নয়।
রাজনাথ সিং বলেন, সিন্ধু প্রদেশের ঐতিহাসিক সংযোগ ভারতের সঙ্গে গভীর। বিশেষ করে স্বাধীনতার সময় সিন্ধু অঞ্চল পাকিস্তানে চলে যাওয়াকে বহু সিন্ধি হিন্দু এখনো মেনে নিতে পারেননি। লালকৃষ্ণ আদবানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সিন্ধু নদকে শুধু সিন্ধুর মানুষ নয়, সমগ্র ভারতের হিন্দুরাই পবিত্র মনে করেন। তাঁর দাবি, “সিন্ধুর বহু মুসলিমও বিশ্বাস করতেন, সিন্ধুর জল মক্কার জমজমের চেয়ে কম পবিত্র নয়।”
দক্ষিণ-পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত সিন্ধু প্রদেশের পশ্চিমে বালোচিস্তান, উত্তরে পাঞ্জাব, পূর্বে ভারতের রাজস্থান-গুজরাট এবং দক্ষিণে আরব সাগর। করাচি এই প্রদেশের রাজধানী। ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতার কারণে ভারতের পাখির চোখ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ—এই ধারণা নতুন নয়, তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
ভারতের পাখির চোখ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ? রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যে তীব্র জল্পনা
পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বিজেপির অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। লোকসভা অধিবেশনে কেন্দ্র একাধিক বার জানিয়েছে, POK এক দিন ভারতের দখলে ফিরে আসবেই। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশ যোগ হওয়ার ইঙ্গিত এই প্রথম এত পরিষ্কারভাবে শোনা গেল।
এ ছাড়া, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করেছে। চলতি বছরের অক্টোবর থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র গণআন্দোলন দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আটজনের মৃত্যু সেই অশান্তিকে আরও তীব্র করেছে।

সিন্ধু প্রদেশও গত কয়েক মাস ধরেই উত্তাল। সেখানে নতুন খাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিবাদে ব্যাপক আন্দোলন ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি ছিল, এই প্রকল্পে লাভবান হবেন পাঞ্জাবের জমির মালিক ও কর্পোরেট গোষ্ঠী, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ সিন্ধি মানুষ। আন্দোলনকারীরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তোলে।
এই সমস্ত পরিস্থিতি মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য নিছক মন্তব্য নয়। ভারতের পাখির চোখ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ—এই ধারণা যে শুধু ইতিহাস বা আবেগ নয়, আধুনিক ভূ-রাজনীতিতেও এর গুরুত্ব বাড়ছে, তারই ইঙ্গিত হয়তো দিয়েছেন তিনি।
যদিও এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাকিস্তান শিবিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, আর ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়েছে নতুন কৌতূহল—এ কি ভারতের ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্লিখনের সূচনা?







