ভারতের ক্রিকেটে ফের এক নতুন ইতিহাস। কয়েক সপ্তাহ আগেই মূলধারার ক্রিকেটে মহিলা দল প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতে দেশকে গর্বিত করেছিল। আর এবার সেই জয়যাত্রায় যোগ হল আরও এক অধ্যায়—ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত প্রথম Blind Women’s Cricket World Cup-এ একেবারে অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালে নেপালকে সাত উইকেটে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে দেশের মেয়েরা।
শুরু থেকেই ভারতীয় দলের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—টুর্নামেন্ট জিতে দেশের জন্য নতুন ইতিহাস লেখা। প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দৃঢ়তা তাঁরা বজায় রেখেছেন। ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় তাই শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং মানসিক শক্তি, লড়াই এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।


ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়, নেপালকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মেয়েরা
টুর্নামেন্টে ভারতের দাপট ছিল একেবারে অন্য স্তরের। ফাইনালে টস জিতে ভারত নেপালকে ব্যাট করতে পাঠায়। নেপাল ২০ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে থেমে যায়। সারিতা ঘিমিরে ৩৫ এবং বিমলা রায় ২৬ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ভারতের হয়ে যমুনা রানি টুডু ও অনু কুমারী একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দল বিপক্ষকে কোনও সুযোগই দেয়নি। মাত্র ১২.১ ওভারেই লক্ষ্য তাড়া করে ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত হয়। ফুলা সারেন ২৭ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করে নেপালের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। করুণা কে করেন ঝড়ো ৪২, আর বসন্তী হাঁসদা অপরাজিত ১৩ রানে দলকে জয় এনে দেন। ভারত মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ শেষ করে ফেলে।



পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য। শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারানো, এরপর অস্ট্রেলিয়াকে ২০৯ রানে চূর্ণ করা, নেপালকে ৮৫ রানে হারানো—প্রতিটি ম্যাচেই ভারত দেখিয়েছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। আমেরিকা, পাকিস্তান এবং সেমিফাইনালে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় প্রমাণ করে দিয়েছে, এই শিরোপা প্রাপ্যই ছিল ভারতের।
এই সাফল্য শুধু খেলায় নয়, দেশের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রীড়াবিদদের জন্যও এক বিশাল প্রেরণা। ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় নতুন প্রজন্মকে দেখিয়ে দিচ্ছে, সীমাবদ্ধতা নয়—ইচ্ছাশক্তিই খেলাধুলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই জয় দেশের Blind Sports উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে। গ্রামীণ এলাকা থেকে উঠে আসা অসংখ্য তরুণী এখন আরও উৎসাহিত হবেন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে।
ভারতের জন্য এটি শুধু একটি বিশ্বজয় নয়, বরং নারী শক্তির জয়, প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার গল্প এবং ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়।








