মাঠের বাইরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন যে এবার সরাসরি ২২ গজে এসে পড়েছে, তারই ইঙ্গিত মিলল অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে। শনিবার টসের পর বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন করলেন না ভারতের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান উত্তপ্ত আবহে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।
শনিবার অনূর্ধ্ব–১৯ ওয়ান ডে বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। টসের সময় ম্যাচ রেফারি ডিন কস্কার নির্দেশ দিলে কয়েন ছোড়েন আয়ুষ। বাংলাদেশের পক্ষে সহ-অধিনায়ক আবরার ‘টেল’ ডাকেন এবং টস জেতে বাংলাদেশ। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই সরে যান ভারত অধিনায়ক। স্বাভাবিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে করমর্দনের যে রীতি রয়েছে, তা এদিন মানা হয়নি। আয়ুষ যেমন হাত বাড়াননি, তেমনই আবরারের দিক থেকেও করমর্দনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসের সময় উপস্থিত থাকতে না পারায় সহ-অধিনায়ককেই পাঠানো হয়েছিল।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল। এর আগে এশিয়া কাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচেও দুই দলের অধিনায়ক করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তখন ভারতের নেতৃত্বে থাকা সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা-র সঙ্গে হাত মেলাননি। পরবর্তী সময়ে ছোটদের ক্রিকেট ও মহিলা ক্রিকেটেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কও তীব্র চাপে। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার অভিযোগ ও অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতে প্রতিবাদের সুর চড়ে। সেই আবহেই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বা BCCI বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএলে না খেলার নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দল থেকে রিলিজ করে। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
এই বিরোধের জেরেই বাংলাদেশ আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি তুলেছে। যদিও ICC এখনও ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।


সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যে ক্রমশ ক্রিকেটের সৌজন্যবোধেও ছায়া ফেলছে, অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের এই ঘটনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকেই। আবরারের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে আয়ুষ মাত্রে স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিলেন—এই মুহূর্তে ভারতীয় শিবিরের অবস্থান আপসহীন।








