বাংলাদেশে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে অস্থিরতার মেঘ। ভোটের আগে হিংসা, বিক্ষোভ ও অপরাধ বৃদ্ধির আবহে এবার বড় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল ভারত। নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক ও আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে ভারতে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। যদিও কূটনৈতিক কাজকর্ম চালু থাকবে, তবু এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—পড়শি দেশে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে নয়াদিল্লি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত। Ministry of External Affairs-এর তরফে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। পরিবারগুলিকে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হলেও বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশন, সহকারী হাই কমিশন ও অন্যান্য কেন্দ্র আগের মতোই খোলা থাকবে এবং কূটনৈতিক পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।


বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। ভোটকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন জায়গায় হিংসার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে Bangladesh-এ কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। সূত্রের খবর, নয়াদিল্লি থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে কর্মরতদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে Dhaka-য় ভারতের হাই কমিশন রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহি, সিলেট ও খুলনায় রয়েছে ভারতের চারটি সহকারী হাই কমিশন। এই সব কেন্দ্রেই কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্যই মূলত এই পরামর্শ জারি করা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এটি কোনও কূটনৈতিক টানাপড়েনের ইঙ্গিত নয়—শুধু মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত।
ভোটের পাশাপাশি বাংলাদেশে হতে চলেছে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়, জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে আপিল ও যাচাই প্রক্রিয়া। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশ হবে চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা ও প্রতীক। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু ২২ জানুয়ারি থেকে, চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত। এই দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাজনীতির পাশাপাশি রাজপথে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


গত মাসে ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন যুবনেতা ওসমান হাদি। তার পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালে অপহরণের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ, ডাকাতির অভিযোগ বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
এই অশান্ত আবহে গত বছরের শেষে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক দফতরের সামনে বিক্ষোভ হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। পরে চট্টগ্রামে ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিলেটেও উত্তেজনা ছড়ায়, যার জেরে ভিসা পরিষেবায় প্রভাব পড়ে।
এই সব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে সতর্কতা জারি করল বিদেশমন্ত্রক। বার্তা স্পষ্ট—কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত।







