৩০০ রানের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ মুহূর্তে ছন্দ হারাল ভারতীয় ব্যাটিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দুরন্ত শুরু করেও শেষ চার ওভারে তালগোল পাকিয়ে ফেলল টিম ইন্ডিয়া। সঞ্জু স্যামসনের ঝকঝকে ইনিংস এবং ঈশান কিষানের অর্ধশতরানের পরেও ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৩০০-র স্বপ্ন অধরাই রইল। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে থামল ভারত। তবে শেষ ওভারে শিবম দুবের ২৪ রানের ঝড় স্কোরবোর্ডকে আরও শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ভারতের দুই ওপেনার। অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই কিউই বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে ভারত তুলে ফেলে ৯২ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর।
অভিষেক শর্মা মাত্র ২১ বলে ৫২ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। এরপর সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে যোগ দেন ঈশান কিষান। দু’জন মিলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন এবং ম্যাচে ভারতের দাপট আরও বাড়িয়ে দেন।
সঞ্জু স্যামসন আবারও শতরানের খুব কাছ থেকে ফিরলেন। টানা তৃতীয় ম্যাচে শতরানের দোরগোড়া থেকে ফিরে যেতে হল তাঁকে। এই ম্যাচে তিনি আউট হন ৮৯ রানে। তাঁর বিদায়ের পরই ভারতের ইনিংসে হঠাৎ ধাক্কা লাগে।
অন্যদিকে ঈশান কিষানও দারুণ ব্যাটিং করে ২৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হন। এর ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও দলের প্রথম তিন ব্যাটারই অর্ধশতরান করলেন।
কিন্তু সঞ্জু ও ঈশানের আউট হওয়ার পর হঠাৎ করেই ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। এক ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সূর্যকুমার যাদব শূন্য রানে ফিরে যান, আর হার্দিক পাণ্ড্যাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
শেষ দিকে তিলক বর্মা ও শিবম দুবে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে শেষ ওভারে দুবের ঝোড়ো ব্যাটিং ভারতের স্কোরকে আরও বড় করে তোলে। তিনি মাত্র কয়েক বলেই ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন এবং শেষ ওভারে একাই ২৪ রান তোলেন।
সব মিলিয়ে ২০ ওভারে ২৫৫/৫ রান তোলে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ভারতের অন্যতম বড় স্কোর এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।



