ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে ১১৪টি নতুন রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পে বড় অগ্রগতি হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, আগামী অগস্টের মাঝামাঝি ভারতের পাঠানো লেটার অফ রিকোয়েস্ট (Letter of Request)-এর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারে ফ্রান্স। সেই জবাব মিললেই দুই দেশের মধ্যে দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে উৎপাদন এবং সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
চলতি বছরের মে মাসে ভারত সরকার সরকার-টু-সরকার (Government-to-Government) কাঠামোর অধীনে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়। প্রথমে দ্রুত জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও, ফরাসি কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সময় চেয়ে অগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মহলের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফ্রান্সের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ভারতের হাতে পৌঁছে যাবে।
এই মেগা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উৎপাদন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ৯৪টি ভারতে তৈরি হবে। ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন (Dassault Aviation) একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বিমানগুলি উৎপাদন করবে। এর ফলে শুধু আধুনিক যুদ্ধবিমানই নয়, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) কর্মসূচিও বড়সড় গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বায়ুসেনার ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা নির্ধারিত প্রয়োজনের তুলনায় কম। পুরনো মিগ (MiG) সিরিজের যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে অবসর নিচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএ তেজস মার্ক-১এ (LCA Tejas Mk-1A) এবং ভবিষ্যতের তেজস মার্ক-২ (Tejas Mk-2) প্রকল্প প্রত্যাশার তুলনায় দেরিতে এগোনোর কারণে যুদ্ধবিমানের ঘাটতি আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাফাল বহর সম্প্রসারণকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌসেনার জন্য মোট ৬২টি রাফাল যুদ্ধবিমানের অর্ডার রয়েছে। নতুন ১১৪টি বিমান যুক্ত হলে দেশের রাফাল বহর বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৬-এ। পাশাপাশি ভারতীয় নৌসেনা ভবিষ্যতে আরও ৩১টি রাফাল মেরিন (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের হাতে রাফালের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ পর্যায়েও এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং (Rajesh Kumar Singh) দায়িত্ব নেওয়ার পর বায়ুসেনার যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (Defence Acquisition Council – DAC) ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এখন ফ্রান্সের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পর মূল্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশীয় উৎপাদনের পরিধি এবং সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।



