ভারত ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্যময়! স্বাধীন ভারতের সার্থক স্বাধীনতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সুপ্রাচীন কাল থেকেই  ভারতীয় উপমহাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। ভারত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ শুধু বৈচিত্র্যপূর্ণ নয় বলা ভালো ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য। তবে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই দেশ পুরোদস্তুর একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়ে ওঠে। অতঃপর, এক সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারত একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। কারণ ভারতবর্ষের ভাষা বর্ণ জাতির বিভেদ থাকা সত্ত্বেও ভারতবর্ষের ঐক্যের বৈচিত্র্যতা তাদের ভিন্নতা সৃষ্টিতে অক্ষম। অর্থাৎ ভাষা, ভৌগলিক পরিবেশ, ধর্ম, ঐতিহ্য পরম্পরায় প্রত্যেকটির সাথে প্রত্যেকটির ভিন্নতা থাকলেও সবশেষে একটাই পরিচয় এক তা হল জাতীয়তা।

পাশাপাশি হাজার বৈষম্যতা থাকা সত্ত্বেও একতার অন্যতম নিদর্শন ঐক্যবদ্ধতা। যা বিশ্বের কাছে ভারতবর্ষকে নতুন রূপ প্রদান করে। ঐক্যবদ্ধতার লক্ষ্য একটাই বৈচিত্রতার মধ্যেও সকল জাতিকে সমান অধিকার ও সম্মান দান করা। ভারত এমন একটি দেশ যার বৈচিত্র্যতা শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে নয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়। পাহাড় পর্বত, নদী-নালা, মরুভূমি, বরফাবৃত পর্বত শ্রেণীগুলি আলাদা আলাদা গল্প লিখে যায়। জলবায়ুর পার্থক্য, সঙ্গীত শিল্পকলা, ভাস্কর্যের ভিন্নতা সব কিছুই যেন একই সূত্রে বাঁধা।

Shamim Ahamed Ads

ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য শব্দটি সংহতি বা অখণ্ডতার শর্তকে বোঝায়। শারীরিক বৈশিষ্ট্য, চামড়ার রঙ, বর্ণ, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ধর্ম, ঐতিহ্য ইত্যাদিতে পৃথক পৃথক পার্থক্য বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণায় বিতর্কের উৎস হিসাবে বিবেচিত হয় না। পরিবর্তে, এই পার্থক্যগুলি সমাজ এবং দেশের জন্য উপকারী বৈচিত্র্য হিসাবে বিবেচিত হয় । বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং মতামতের সাথে মানুষকে বিভক্ত করা সহজ, তাই একটি দেশের জন্য বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য। ভিন্নতা সত্ত্বেও মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে একটি জাতিকে ধ্বংস করা জটিল। দেশটির অধিবাসীদের চুক্তি দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তারা যা খুশি তা পালন করে। এখানকার লোকেরা একে অপরের প্রশংসা করে এবং তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা এবং বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ভালবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের পরিবেশে বাস করে। ভারত, একটি 5000 বছরের পুরানো সভ্যতা। যেখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, সংস্কৃতি বা ভাষাতে বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। প্রায় 29টি রাজ্য রয়েছে, প্রতিটির নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ভাষার পার্থক্য রয়েছে। যা পৃথিবীর মধ্যে ভারতকে বৈচিত্র তার দিক থেকে আলাদা ধাপে এগিয়ে রেখেছে। এবং তা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যেও বর্ণনা করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রানাথ ঠাকুর।

যেখানে বলা হয়েছে “পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উত্‍‌কল বঙ্গ, বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ। তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিস মাগে, গাহে তব জয়গাথা।“ এই পংক্তিটির অর্থই বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যময় ঐক্যবদ্ধ সংস্কৃতির ঝলক।

 

 

 

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত