নজরবন্দি ব্যুরোঃ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঘোরতর সঙ্কট নেমে এসেছে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান জাতীয় সংসদে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩ এপ্রিল সংসদে ভোটাভুটি হবে। মনে করা, সংসদে অনাস্থা ভোট হলে, ইমরান খানের হার অনীবার্য কারণ সংখ্যার বিচারে বিরোধীরা তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের থেকে এগিয়ে।
আরও পড়ুনঃ শুধু LED বাল্বের আলোই খতম হবে করোনা, এডস এর মত ভাইরাস! দাবি বিজ্ঞানীদের
ক্ষমতা বাঁচাতে বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইমরান খান কোনও ধরনের চেষ্টা করতে বাকি রাখেননি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে ইমরানের সঙ্গে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার বৈঠকের পরে সেই জল্পনা আরও দৃঢ় হয়েছে। ইমরান বুধবার সহযোগী এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করতে পারেন বলে পাক সংবাদমাধ্যমের একটি সূত্রের দাবি।

যদিও ইমরানের দফতর থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ৩৪২ আসনের পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের ‘জাদু সংখ্যা’ ১৭২। ইমরানের নিজের দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সদস্য ১৫৫ জন। কিন্তু পিটিআই-এর বেশ কয়েক জন পার্লামেন্ট সদস্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ইমরানের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া বুধবার ইমরান সরকারের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)-এর ৭ এবং বালুচিস্তান আওয়ামি পার্টি (বিএপি)-র ৫ সদস্য রয়েছেন।

অনেকেই মনে করেন, ইমরান খান আজ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তার নেপথ্যে পাক সেনাবাহিনীর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ ২০১৮ সালে ইমরান খান যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন, পাক সেনাবাহিনী তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। অনেকেই দাবি করেন আগেই ইমরান খান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেনার সমর্থন সেই সময় থাকার কারণে সরকার বাঁচাতে সক্ষম হন ইমরান।

পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ইমরানের, তবে কি এবার ইস্তফা?
তবে এবার পাক সেনাবাহিনী কিন্তু তাঁর উপর ক্ষুব্ধ কারণ কিছু দিন আগেই ইমরান খান ঘনিষ্ঠ পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই প্রধান ফইজ হামিদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাক সেনা বাহিনীর মদতেই ওই কাজ হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ইমরান খান পাক সেনা প্রধান বাজওয়া সহ শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁকে ইস্তফা দিতে বলেন।



