IFA Shield -এ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, কলকাতা ডার্বির সম্ভাবনা তুঙ্গে

দাপুটে ফুটবলে নামধারী এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। রশিদ ও বিষ্ণুর গোলেই লাল-হলুদের ফাইনাল স্বপ্নপূরণ। এখন নজর বুধবারের মোহনবাগান ম্যাচে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্দান্ত ফুটবলে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার নামধারী এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে IFA Shield Final 2025-এ জায়গা পাকা করল লাল-হলুদ শিবির। গোলদাতা মহম্মদ রশিদ এবং পিভি বিষ্ণু।
এই জয়ের ফলে East Bengal FC-র সামনে আবার এক ঐতিহাসিক সুযোগ—কলকাতা ডার্বিতে শিল্ড ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে মোহনবাগানের সঙ্গে।

প্রথমার্ধেই জয় নিশ্চিত করে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
খেলার শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে মাঠে নামে অস্কার ব্রুজোর দল। পঞ্জাবের শক্তিশালী নামধারী এফসিকে শুরু থেকেই চাপে রাখে লাল-হলুদরা। ১৯ মিনিটে প্রথম গোল করেন রশিদ—সাউল ক্রেসপোর নিখুঁত ক্রসে মিগুয়েলের হেড ফিরলে সেটিই কাজে লাগান রশিদ।
এরপর ৪২ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে বিষ্ণুর গতি আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে বিষ্ণু ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঢিলেঢালা খেলা ইস্টবেঙ্গলের, তবুও ধরে রাখে লিড।
২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সাবধানী হয়ে ওঠে দল। মাঝমাঠে বলের দখল বজায় রাখলেও আক্রমণের ধার কমে আসে। সেই সুযোগে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল নামধারী, কিন্তু গোল পায়নি। গোলরক্ষক প্রিয়ন্ত সিংয়ের দৃঢ় উপস্থিতি বিপদের মুখে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

অস্কার ব্রুজো ম্যাচের পর বলেন, “জয়ের জন্য ছেলেদের ধন্যবাদ। আমরা শুধু ড্র নয়, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিলাম। ফাইনালে যাওয়ার যোগ্য ছিলাম।” কোচের মুখে আত্মবিশ্বাস, “যে দলের বিরুদ্ধে আমরা খেললাম, তারা শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ছেলেরা পরিকল্পনা মেনে খেলে ফল এনে দিয়েছে।”

এখন নজর বুধবারের মোহনবাগান ম্যাচে।
অন্য গ্রুপে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট প্রথম ম্যাচে গোকুলম কেরালাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের বিরুদ্ধে জিতেছে ১-০ গোলে। দু’দলই তিন পয়েন্টে সমান হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে রয়েছে সবুজ-মেরুনরা।
ফলে বুধবার ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করলেই Mohun Bagan vs East Bengal Kolkata Derby হবে শনিবারের IFA Shield Final 2025-এ। আর সেই ম্যাচ ঘিরেই এখন উত্তেজনা তুঙ্গে গোটা ফুটবল মহলে।

ইস্টবেঙ্গলের ফাইনালে ওঠা শুধুই জয় নয়, বার্তা।
দলটি যেভাবে পরপর দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ব্রুজোর শিষ্যরা সঠিক ছন্দে রয়েছে। আক্রমণভাগে বিষ্ণু, মিগুয়েল ও রশিদের সমন্বয় তৈরি হচ্ছে। মাঝমাঠে ক্রেসপোর নিয়ন্ত্রণ ও ডিফেন্সে প্রিয়ন্তের স্থিরতা দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
লাল-হলুদের সমর্থকরা এখন শুধু অপেক্ষা করছেন একটাই ঘটনার জন্য—কলকাতা ডার্বির মহারণে মোহনবাগানের মুখোমুখি হওয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত