বাংলাদেশ অনড় থাকলে কি বিকল্প পথে বিশ্বকাপ? বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। বিকল্প পরিকল্পনা কি প্রস্তুত?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জটিলতা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ আসবে কি না, তা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা চরমে, ঠিক তখনই তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন জয় শাহ। রবিবার বরোদায় ভারত-নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীনই বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন আইসিসি চেয়ারম্যান। ক্রিকেট মহলের চোখ এখন সেই বৈঠকের দিকেই—বাংলাদেশকে ছাড়াই কি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হবে?

সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে বিকল্প বন্দোবস্ত। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে এসে খেলতে রাজি না হয়, সে ক্ষেত্রে কীভাবে টুর্নামেন্ট পরিচালিত হবে, তা নিয়েই প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে দু’দফা চিঠি পাঠিয়েছে।

প্রথম চিঠির উত্তরে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদলের প্রশ্নই নেই এবং ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বাস্তব সমস্যা নেই। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় চিঠির ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিতে চলেছে আইসিসি। আইসিসির দাবি, বিসিবি এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও যুক্তিগ্রাহ্য নথি বা প্রমাণ দিতে পারেনি।

এই আবহেই জয় শাহর সঙ্গে বিসিসিআই কর্তাদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি বাংলাদেশকে ধরেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হবে, নাকি সমান্তরাল ভাবে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হবে? সূত্রের মতে, আইসিসি আপাতত বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ধরেই সূচি ও প্রস্তুতি এগোনোর পক্ষপাতী। তবে বিসিবি যদি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকে, সে ক্ষেত্রে আইসিসির কাছে অন্য রাস্তা খোলা রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা। আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশের চাপে মাথা নোয়ানো হবে না। নির্ধারিত দিনে দল মাঠে না নামালে বাংলাদেশ ম্যাচের পয়েন্ট পাবে না—ধরা হবে ওয়াকওভার। ইতিহাসেও এমন নজির রয়েছে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ে সফরে যেতে অস্বীকার করায় ইংল্যান্ড ওয়াকওভার দিয়েছিল। অন্য দিকে, চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য কোনও দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আইসিসি। যেমন ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া না খেলায় তাদের জায়গায় আয়ারল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল।

রবিবারের বৈঠকের পরই বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ রূপরেখা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন