রাজ্যের ভোটের আগে হঠাৎই বড় চমক—একসঙ্গে দুই আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা থেকেও লড়বেন বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট ভাষায় বললেন—তৃণমূলকে ‘শিক্ষা দিতেই’ এই নতুন রণকৌশল। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের অন্দরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে সামনে রেখেই কি এই চাল?
বুধবার নিজের দলের প্রার্থী তালিকার প্রথম ধাপ ঘোষণা করেন হুমায়ুন। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকার কোনও পরিকল্পনা নেই। নওদা আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খান। সেই আসনেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছেন হুমায়ুন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওদায় তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বই হতে পারে হুমায়ুনের মূল অস্ত্র। স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের যে সুর শোনা যাচ্ছে, তা কাজে লাগিয়ে ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ গড়ার চেষ্টা করছেন তিনি। দলীয় সূত্রে দাবি, তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া একাধিক নেতার অনুগামীরা ইতিমধ্যেই হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
রেজিনগর থেকে হুমায়ুনের লড়াই নিয়ে আগেই জল্পনা ছিল। পাশাপাশি বেলডাঙা থেকেও তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, বিশেষ করে সেখানে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে। তবে সেই জল্পনায় ইতি টেনে বেলডাঙায় দলের রাজ্য সভাপতি সৈয়ব আহমেদ কবিরকে প্রার্থী করেছেন তিনি।
এদিকে কান্দি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে ইয়াসির হায়দারকে, যিনি রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই হিসেবে পরিচিত। ফলে প্রার্থী বাছাইয়েও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট রাখতে চাইছেন হুমায়ুন।
ঘনিষ্ঠ মহলে হুমায়ুনের দাবি, তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের একটি বড় অংশ তাঁর পাশে আসতে পারে। ফরাক্কা, জলঙ্গি ও বেলডাঙা এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতার অনুগামীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এবার তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দেওয়াই লক্ষ্য, সেই মতোই রণকৌশল সাজানো হয়েছে।”
২২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। তার আগে এই আংশিক তালিকাই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও অতীতে সিপিএম বা মিমের সঙ্গে জোটের চেষ্টা সফল হয়নি, তবুও একক লড়াইয়ে বড় চমক দেওয়ার প্রস্তুতি যে চলছে, তা স্পষ্ট।



