হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করবে সিপিআইএম? প্রস্তাব সেলিমের! বিস্ফোরক ভরতপুরের বিধায়ক

সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর দাবি করলেন—মহম্মদ সেলিম তাঁকে নতুন সেকুলার দল গড়লে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন, সঙ্গে এল আরও বিস্ফোরক বিবৃতি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুললেন হুমায়ূন কবীর। এবিপি আনন্দে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি এমন দাবি করেছেন, যা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ উল্টে দিতে পারে। তাঁর কথায়, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর সকালে যখন তিনি সাংবাদিকদের বাইট দিয়ে ফিরছিলেন, তখনই তাঁকে ফোন করেন এক সিপিআইএম নেতা। সেই ফোনালাপেই নাকি সরাসরি কথা বলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য তথা রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম

হুমায়ূন কবীর এবিপি আনন্দের লাইভ সম্প্রচারে বলেন, আজ দুপুর ২টো নাগাত তাঁকে ফোন করেন মহম্মদ সেলিম। সেলিম তাঁকে প্রস্তাব দেন যে তিনি যদি একটি সেকুলার রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তাহলে সিপিআইএম সেই দলের সঙ্গে জোট করে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। হুমায়ূন এই দাবি, রিপিট করেন এবিপি আনন্দের লাইভ অনুষ্ঠানে। এই হুমায়ূন কবীরসিপিআইএম জোট প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করবে সিপিআইএম? প্রস্তাব সেলিমের! বিস্ফোরক ভরতপুরের বিধায়ক

তবে এখনও পর্যন্ত মহম্মদ সেলিম বা সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নীরবতার কারণে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ঘটনাটি সত্যি হয়, তাহলে বিরোধী শিবিরে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

এই উত্তপ্ত প্রসঙ্গের মাঝেই হুমায়ূন আজ আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী নাকি ৩০টি খুন করে নেতা হয়েছেন। তাঁর দাবি ইতিমধ্যেই কংগ্রেস শিবিরে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করবে সিপিআইএম? প্রস্তাব সেলিমের! বিস্ফোরক ভরতপুরের বিধায়ক
হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করবে সিপিআইএম? প্রস্তাব সেলিমের! বিস্ফোরক ভরতপুরের বিধায়ক

তবে বিতর্ক সৃষ্টি করলেও হুমায়ূন নিজেকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন। তিনি বলেন, যদি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী সরাসরি জোট প্রস্তাব দেন, তাহলে তিনি তা বিবেচনা করতে পারেন। এই বক্তব্যের পর আরও স্পষ্ট হল যে হুমায়ূন এখন নিজের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজছেন।

এদিকে তিনি দাবি করেন, AIMIM, ISF-সহ একাধিক দল ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অর্থাৎ, রাজনৈতিকভাবে তিনি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যমণি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হুমায়ূন কবীরের জনপ্রিয়তা সীমিত হলেও তাঁর চারপাশে তৈরি হওয়া বিতর্ক ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এই হুমায়ূন কবীর বিতর্ক তৃণমূলের জন্যও কম মাথাব্যথার কারণ নয়। দলবিরোধী মন্তব্য ও আচরণের দায়ে তাঁকে সাসপেন্ড করার পরও প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবি উঠে আসছে। আগামী নির্বাচনের আগে এমন বিতর্ক তৃণমূলের পক্ষে অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

হুমায়ূন কবীরের দাবি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে অনেকের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেলিমের মতো বর্ষীয়ান নেতা কোনও ব্যক্তিগত পর্যায়ের রাজনীতিকে এত সহজে গুরুত্ব দেবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু আবার অন্য মহলের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার চেষ্টা বহুদিনের। সেই প্রেক্ষিতে এমন প্রস্তাব অসম্ভবও নয়।

বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটি প্রশ্ন—সত্যিই কি সিপিআইএম হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে জোট করতে চায়? উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিতর্ক আরও বাড়বে। আর এই ঘটনার ফলে ২০২৬ নির্বাচনের আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চে উত্তেজনা চরমে উঠবে তা নিশ্চিত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত