রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চর্চার কেন্দ্রে নওদার বিধায়ক ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র নেতা হুমায়ুন কবীর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তাঁর ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবারই আইনি লড়াই শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এজেইউপি নেতা।
সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় ই-মেলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে হুমায়ুন কবীরকে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে তাঁর নিরাপত্তায় নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব থেকে সরে যান।


উল্লেখ্য, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন হুমায়ুন। আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই তাঁকে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক আধিকারিক ও জওয়ান। নির্বাচনী সময় সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বহাল থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে কেন তা তুলে নেওয়া হল, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এই বিষয়টিকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে হুমায়ুন দাবি করেছেন, রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দিতে দেখা গেছে এজেইউপি নেতাকে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বহু পুরনো অভিযোগ ও সমালোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
হুমায়ুন আরও দাবি করেছেন, তিনি কখনও স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং দলীয় পদক্ষেপের জেরেই তাঁকে নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে হয়েছিল। সেই কারণেই পরবর্তীতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির জন্ম হয় বলে তাঁর বক্তব্য।
এখন নজর আদালতের দিকে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পুনর্বহালের দাবিতে হুমায়ুন কবীরের আইনি লড়াই কতদূর এগোয় এবং প্রশাসনের তরফে কী অবস্থান নেওয়া হয়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



