রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাতের সুর আরও চড়ালেন হুমায়ুন কবীর। সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, আগামী জানুয়ারি মাসেই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ বড় সমাবেশ করে দেখাবেন তিনি। তাঁর নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র শক্তি কতটা, তা মাঠে নামিয়ে প্রমাণ করার দাবি করেন হুমায়ুন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “আগামী জানুয়ারিতে ব্রিগেড ময়দানে সভা করে দেখাব। পারলে হুমায়ুন কবীরকে রুখে দেবে। ৩১ জানুয়ারির আগেই হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ-এর দিকে। পাশাপাশি তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

শুধু তৃণমূলের নেতারাই নন, সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন হুমায়ুন। সংবাদমাধ্যমে মুখোমুখি বসে বিতর্কে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি যদি কোনও গদ্দারি করে থাকি, আপনি বলবেন। আপনি আমার সঙ্গে কী করেছেন, সেটা বাংলার মানুষ জানুক। সিদ্ধান্ত মানুষই নেবে।”
তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁকে সাসপেন্ড করার আগে দলের একাধিক নেতার সঙ্গে ‘রাতের অন্ধকারে’ আলোচনা করা হয়েছিল।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর জীবনযাপন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “বুদ্ধবাবু ছোট্ট সরকারি ফ্ল্যাটে থাকতেন। আর এখন মুখ্যমন্ত্রীর পারিবারিক জমি কতটা—সেটা জানতে চাই।” রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র আক্রমণ করে তাঁর দাবি, “খেলা-মেলা করে সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে।”



হুমায়ুন কবীরের নিশানায় বিজেপিও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে উদ্দেশ করে বলেন,
“২০০টা সিটে লড়লে ১০০টা জিতে যাব। দেখব আপনি কত বড় পালোয়ান।”
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, “মুসলমানদের বলা হল দুধেল গাই। কী দিয়েছেন? ক’জন মুসলিমকে চাকরি দিয়েছেন? মুখে ভালবাসা—মুসলমান অত বোকা নয়।” একই সঙ্গে তৃণমূলের ‘বাঙালি পরিচয়’ রাজনীতিকেও প্রশ্ন করেন তিনি।

জানুয়ারিতে ব্রিগেড সমাবেশের ঘোষণা করে এবং শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষকেই একসঙ্গে আক্রমণ করে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট বার্তা দিলেন, তিনি রাজ্যের মূল রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। সেই চ্যালেঞ্জ বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, নজর এখন সেদিকেই।







