নজরবন্দি ব্যুরোঃ লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, কবে বিদায় নেবে এই মহামারি? দিশা পাচ্ছেন না চিকিৎসকেরাও। নেতা-মন্ত্রী, অভিনেতা-অভিনেত্রী সহ সমস্ত পেশার মানুষ এবং সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে কোভিডে। করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে একে একে বন্ধ হচ্ছে সরকার-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলি। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যাবতীয় বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হল। বুধবার এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিধানসভার সচিবালয়।
আরও পড়ুনঃ আগামী ১৫ দিন সতর্ক থাকুন, রাজ্যবাসীকে সাবধান করলেন মমতা
গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্য দ্রুত গতিতে ছড়িয়েছে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ। তাই নতুন বছরের গোড়া থেকেই বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেই পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখেই এ বার বিধানসভার কাজেও বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যেখানে বিধানসভার বিভিন্ন কমিটির বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ৪১টি কমিটি রয়েছে। তার মধ্যে ২৫টি স্ট্যান্ডিং কমিটি ও ১৬টি অ্যাসেম্বলি কমিটি। রাজ্য সরকারের দফতর সংক্রান্ত এই কমিটিগুলির বৈঠক হয় সারা মাস জুড়ে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত যাবতীয় বৈঠক স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম আক্রমণের সময় লকডাউন হলে, বন্ধ করে দেওয়া হয় বিধানসভার সচিবালয়।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর করোনা সংক্রমণ দ্বিতীয় বার মাথা চাড়া দিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে বারও বন্ধ রাখা হয়েছিল বিধানসভার সচিবালয়। এ বার অবশ্য সরকার পুরোপুরি লকডাউনে না গিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। তাই বিধানসভার সচিবালয় বিধানসভা পুরোপুরি বন্ধ না করে বরং কর্মপরিকল্পনায় কাটছাঁট করেছে। ফলস্বরূপ, ২৯৪ জন বিধায়ককে নিয়ে তৈরি ৪১টি কমিটির সব বৈঠক স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
ভয়াল করোনার গ্রাসে রাজ্য, স্থগিত বিধানসভার যাবতীয় বৈঠক

এ বিষয়ে বিধানসভার এক আধিকারিকের বক্তব্য, বিধায়করা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। তাঁদের এলাকায় করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তা বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তা ছাড়া বিধায়করা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে এলে তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষী-সহ বেশি কিছু মানুষ আসেন। সবার শারীরিক পরীক্ষা করাও বিধানসভার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সব বিষয় মাথায় রেখেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নিয়মমাফিক বৈঠক শুরু হবে। তা জানিয়ে দেওয়া হবে বিধায়কদের।








