সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা অগস্টের শুরুতে কার্যত গণ আন্দোলনে পরিণত। ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশত্যাগ করে এই মুহূর্তে আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। যতই সময় যাচ্ছে, ততই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। মঙ্গলবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সেনা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংগঠন।
পরিস্থিতি যদিও মঙ্গলবার থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হবার চেষ্টায়। খুলে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের বেশিরভাগ সীমান্তই। তবে, আশঙ্কাটা ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ, বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে চাইছে বিএনপি এবং জামাত। কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের দখলে বাংলাদেশের দখলে চলে গেলে সে দেশের সংখ্যালঘুরা বিপদে পড়বেন। তাঁরা চলে আসবেন এপার বাংলায়। যা নিয়ে এর আগে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়মানুযায়ী, পড়শি দেশের উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে হবে মানবিক কারণে। শুভেন্দু সাফ বলেছেন, আগামী দিনে ১ কোটি শরনার্থী এ রাজ্যে আসবেন। ফলে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে একটা ‘চাপ’ সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এপার বাংলার। সেখানে কি ক্ষতি হতে পারে?
পেট্রাপোল সীমান্তে দৈনিক ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। মূলত, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ ও মশলা রপ্তানি হয়। মোট ৫০০ ট্রাক যাতায়াত করে। হিলি সীমান্ত দিয়ে দৈনিক অরায় ১০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ ও মশলা যায় বাংলাদেশে। ট্রাক যায় ১১০টি করে। চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে দৈনিক ৫০০-৬০০টি ট্রাক যাতায়াত করে, ব্যবসা হয় ৫০ কোটি টাকার। রপ্তানি হয় পেঁয়াজ, প্রসাধন, পাথর ও কাঁচামাল। ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে দৈনিক ৫০০-৬০০টি ট্রাকে পাথর রপ্তানি হয় বাংলাদেশে। মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে দৈনিক ৪০০টি ট্রাকে পেঁয়াজ, পাথর ও কাঁচামাল যায় বাংলাদেশে। ফলে, ওপার বাংলায় যদি এই পরিস্থিতি বজায় থাকে তাহলে ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতির মুখে মুখে পড়বে এপার বাংলা।



