রাতে মদ্যপানের পর সকালে শরীর পুরোপুরি ‘ক্লিয়ার’ হয় কি? এই প্রশ্ন অনেকেরই। বাস্তবটা হল— অ্যালকোহল শরীরে ঢোকার পর দ্রুতই রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং সেখান থেকেই নেশার অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু শরীর থেকে তা বের হতে সময় লাগে বেশ কিছুটা, এবং সেটাই অনেক সময় বিপদের কারণও হতে পারে।
মদ্যপানের পর অ্যালকোহল প্রথমে শোষিত হয় রক্তে, তারপর প্রভাব ফেলে মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনি ও ফুসফুসে। বিশেষ করে লিভারই সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় অ্যালকোহল ভাঙার ক্ষেত্রে।


কতক্ষণ থাকে অ্যালকোহল শরীরে?
গড় হিসেবে, এক গ্লাস মদ (স্ট্যান্ডার্ড ড্রিঙ্ক) শরীরে মেটাবলাইজ করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে এক নয়।
নির্ভর করে—
- শরীরের ওজন
- লিঙ্গ
- মেটাবলিজম রেট
- কতটা পরিমাণ মদ্যপান করেছেন
অর্থাৎ, কেউ যদি বেশি পরিমাণে মদ পান করেন, তাহলে তা শরীরে অনেক বেশি সময় ধরে থেকে যায়।
টেস্টে কতক্ষণ ধরা পড়ে?
- সাধারণ ইউরিন টেস্টে: ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত
- উন্নত ইউরিন টেস্টে: ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত
- কিছু ক্ষেত্রে (বিশেষ টেস্টে) আরও দীর্ঘ সময়ও শনাক্ত করা সম্ভব
শরীর কীভাবে অ্যালকোহল ভাঙে?
লিভারে থাকা এনজাইম অ্যালকোহলকে প্রথমে অ্যাসিট্যালডিহাইড, পরে অ্যাসিটেট-এ ভেঙে দেয়। এরপর তা কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলে পরিণত হয়ে ঘাম, শ্বাস ও মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।


অতিরিক্ত মদ্যপানের ক্ষতি
- মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়
- লিভার ও প্যানক্রিয়াস ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে প্রভাব পড়ে
- গ্যাসট্রাইটিস, আলসারের ঝুঁকি বাড়ে
- ত্বক ও হরমোনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মদ খাওয়ার পর “ঘুমিয়ে নিলেই ঠিক হয়ে যাবে”— এই ধারণা ভুল। শরীর থেকে অ্যালকোহল বের হতে সময় লাগে, তাই গাড়ি চালানো বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথেষ্ট সময় দেওয়া জরুরি।







