নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজনীতির কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি এবার টলিউডের অন্দরেও। দেব হিরণ একত্রে নেমেছেন সম্মুখ সমরে, কেউ কাউকে একবিন্দু ছাড়ছেন না। আবারও দেব কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির সাংসদ অভিনেতা হিরণ। ঘাটালে সাংসদ কোটার টাকায় প্রকল্প পেতে কাটমানি দিতে হয় দেবকে – এমনই বোমা ফাটালেন বিজেপির সাংসদ হিরণ। আর সেই মন্তব্য যেন অগ্নিসংযোগ করল এই কয়েকদিন ধরে চলা বাকযুদ্ধে। কার্যত এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘাটাল অঞ্চলে। হিরণের এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেব এখনো দেননি।
আরোও পড়ুনঃঠিকমতো কাজ করছে না, সিবিআইয়ের সিটে বদল আনতে চান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
সম্প্রতি কালীপুজোর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে হিরণ দাবি করেন, ‘বন্যায় ঘাটালের মানুষ যখন হাবুডুবু খায় তখন ঘাটালের সাংসদ দেব তাঁর গার্লফ্রেন্ড নিয়ে মালদ্বীপে ছুটি কাটায়। ঘাটালের মানুষের সমস্যা নিয়ে দেবের ভাবার সময় কোথায়? ২০১৪ সাল থেকে দেব ঘাটালের সাংসদ। সংসদে তাঁর উপস্থিতি ২০ শতাংশের নিচে।‘ তিনি আরোও বলেন, “সাংসদ হিসেব আমি প্রত্যেক মাসে মাইনে নেব। সাংসদ হিসাবে এখানে আমি যা কাজ হবে, তার থেকে কাটমানি নেবো। গরু চোর এনামুল হকের কাছ থেকেও কাটমানি নেবো। নিয়ে আমি সিনেমা করব।“ আর এবার তিনি প্রকাশ্যেই অভিযোগ করলেন, “সাংসদ কোটার প্রকল্প বরাদ্দ করতে ৩০ শতাংশ কাটমানি নেন দেব। এই টাকা দিলে তবেই প্রকল্প পাওয়া যায়।”

এই প্রসঙ্গে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ‘হিরণদা যখন বলেছেন তখন ওনার কাছে নিশ্চই প্রমাণ রয়েছে। এর আগে উনি বলেছিলেন, এনামুলের টাকায় দেব সিনেমা বানিয়েছেন। তার প্রমাণ তো পাওয়া গিয়েছে। এনামুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দেবের অ্যাকাউন্টে ৫ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। দেব যতটা সাধুপুরুষ সাজেন ততটা সাধুপুরুষ উনি নন।’ এই সমস্ত জল ঘোলা হওয়ার পর মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনেক রকম প্রতিক্রিয়া। যদিও দেব বা তৃণ্মূলের কেউ এখনও কোন প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে আগের মন্তব্যের পরই কার্যত দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে জনগন।
“৩০ শতাংশ কাটমানি দিলে তবেই মেলে দেবের সাংসদ প্রকল্পের টাকা”, দেবকে আবার নিশানা করলেন অভিনেতা হিরণ

তবে এর আগে কাটমানি প্রসঙ্গে দেব বলেন, “কাটমানি কীভাবে নিতে হয় প্রসেসটাই জানি না। নিজের পকেট থেকে লোকের কাজ করেছি। আমি যা টাকা রোজগার করি, তা দিয়ে আমার সংসার ভালভাবে চলে যায়। নিজের টাকায় বিদেশে যাই। একইসঙ্গে দেব বলেন, হিরণ আমার ভাল বন্ধু। ও জেতার পর শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। কেন এমন বলল জানি না। তবে হাতে মাইক, সামনে জনতা থাকলে একটা চাপ তৈরি হয়, বুঝতে পারি। তখন অনেক কথা বেরিয়ে যায়। আক্রমণ করতে হয়। খারাপ কথা বলতে হয়। আমি ঘৃণার রাজনীতি বিশ্বাস করি না।“ দেব হিরনকে নিজের বন্ধু বলে পরিচ্য় দিলেও সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক যে নয় তা মানুষ বুঝেছেন। তবে শুধুই কি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেব কে তুলোধোনা করলেন হিরণ নাকি এর পিছনে সত্যই কোন রহস্য রয়েছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।



