কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এর ফলে শিক্ষকমহল থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
নিয়ম অনুযায়ী, সেমেস্টার পদ্ধতিতে প্রতি ছ’মাস অন্তর পরীক্ষা নেওয়ার কথা। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। সেই হিসাবে দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৬ মার্চ থেকে। কিন্তু ভোটের প্রস্তুতি মাথায় রেখে ফেব্রুয়ারিতেই দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা সংসদ।
শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, হাতে এত কম সময় পাওয়া গেলে সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে। কারণ অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজো ও অন্যান্য উৎসবের জন্য স্কুল কার্যত বন্ধ। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়মিত পঠনপাঠন শুরু হবে ২৫ অক্টোবর থেকে। ফলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষক-ছাত্ররা সাকুল্যে মাত্র তিন মাস সময় পাবেন।
নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, “নভেম্বর থেকে পুরোপুরি ক্লাস শুরু হলেও হাতে সর্বাধিক ৯০ দিন সময় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন সিলেবাসের সমস্ত অধ্যায় ও প্রাকটিক্যাল শেষ করা খুবই কঠিন।”
অন্যদিকে পার্ক ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা বলেন, “নতুন সিলেবাসের আওতায় প্রাকটিক্যাল ও থিওরি মিলিয়ে বিশাল কাজের চাপ রয়েছে। শিক্ষা সংসদের উচিত পড়ুয়াদের কথা ভেবে হয় সিলেবাস কমানো, নয়তো পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া।”
শিক্ষকদের আরও আশঙ্কা, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নানা স্কুল কার্যক্রম ও পরীক্ষার কারণে পড়াশোনার সময় আরও কমে যাবে। আগামী ৩ থেকে ১৩ নভেম্বর মাধ্যমিকের টেস্ট, ডিসেম্বরে সামিটিভ পরীক্ষা, তারপর শীতের ছুটি—সব মিলিয়ে কার্যকর ক্লাসের দিন ৭০-৭৫ দিনের বেশি নয়।
জানুয়ারি মাসে যুব দিবস, নেতাজি জয়ন্তী, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো একাধিক সরকারি ছুটি এবং সরস্বতী পুজো, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকায় আরও বিঘ্ন ঘটবে। ফলে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাস সম্পূর্ণ করা ও যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
তবে এই বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এখনই কোনও পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে না। সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক জানিয়েছেন, “ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া উচিত। কাউন্সিল নজর রাখছে যাতে পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা না হয়। আপাতত সিলেবাস বা সময়সূচি পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা নেই।”
শিক্ষা মহলের মতে, ভোটের কারণে প্রশাসনিক ব্যস্ততা বাড়লেও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব পড়ছে। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদরা।
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা ২০২৬ সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা। ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা হলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি আয়োজিত সেমেস্টার পরীক্ষা।








