নজরবন্দি ব্যুরোঃ এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা চলছে। নিয়োগ দুর্নীতির কারণে আদালতের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীরও। তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে চাকরিতে নিযুক্ত করা হয়ে যোগ্য প্রার্থী ববিতা সরকার। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাইকোর্টে ফের মুখ পুড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশনের।
আরও পড়ুনঃ টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা! সারদার সম্পত্তি তালুকদার কমিটিকে দিতে বলল হাই কোর্ট
২০১৬ সালে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই নিয়োগে ইতিহাসের প্রশ্ন ভুল ছিল এই দাবিতে হাই কোর্টে মামলা করেন চাকরি প্রার্থীরা। নবম-দশমে ২০ জন এবং একাদশ-দ্বাদশে দু’জন পরীক্ষার্থী মামলা করেন। সেই মামলাতেই আজ ৬ বছর পর নিজেদের ভুল স্বীকার করল এসএসসি।

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চে চলে মামলার শুনানি। সেখানে বলা হয়েছিল ২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। শিক্ষক নিয়োগে ইতিহাসের প্রশ্নোত্তরে ভুলের অভিযোগ ওঠে। এমনকি কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের বিকল্পেও গন্ডগোল ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ফলে বিকল্প উত্তরে গন্ডগোল থাকা যে প্রশ্নগুলির উত্তর পরীক্ষার্থীরা দিয়েছেন, তাদেরও নম্বর দিতে হবে বলে দাবি ওঠে।

নবম-দশমের ইতিহাসের ৬ এবং ৪০ নম্বরের প্রশ্নে এবং একাদশ এবং দ্বাদশ ১১, ১২ এবং ২৩ নম্বর প্রশ্নে ভুলের অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীদের আইনজীবী দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় নির্দিষ্ট ভাবে ভুল প্রশ্নের তথ্য পেশ করেন আদালতে। পরে আদালতে সওয়াল জবাব চলাকালীন মামলাকারীদের দাবি সত্য বলে স্বীকার করেন স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর আইনজীবী। এর পরই ভুল প্রশ্নের নম্বর বাড়ানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা।
চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, ৬ বছর পর ভুল স্বীকার, হাইকোর্টে ফের মুখ পুড়ল কমিশনের।

সূত্রের খবর, বিচারপতির নাম্বার বাড়ানোর নির্দেশের ফলে অনেক নতুন নাম স্থান পাবে মেধাতালিকায়। ফলে চাকরি পেতে পারেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। যদিও এই মামলার রায় ঘোষণার পর উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। যে সব পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়বে তাঁরা যদি মেধাতালিকায় ঠাঁই পান তাঁরা শেষমেশ চাকরি পাবেন তো?



