সরকারি হাসপাতালের ডিউটি আওয়ার্সে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা দিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, সরকার জনগণের চিকিৎসার জন্যই বেতন দেয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন মন্ত্রী।
রবিবার এক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য মূলত সাধারণ ও প্রান্তিক পরিবারের মানুষ ভরসা করেন। তাই সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রোগী পরিষেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চিকিৎসকদের কাজ করতে হবে।
মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকদের প্রতিও কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চিকিৎসকদের সামাজিক সম্মান রয়েছে। তাই শুধু ডিগ্রি নয়, সেই দায়িত্বেরও মর্যাদা রাখা উচিত। সপ্তাহে মাত্র কয়েক দিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকলে রোগীদের পাশাপাশি পড়ুয়াদেরও ক্ষতি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যাঁরা নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (NPA) নেন না, তাঁরা সরকারি দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারেন। কিন্তু সরকারি ডিউটির সময় প্রাইভেট প্র্যাকটিস কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের কাছ থেকে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন যে বহু শিক্ষক-চিকিৎসক দিনের বড় অংশ বেসরকারি নার্সিংহোমে কাটান। ফলে সরকারি হাসপাতালে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা পান না। এমন প্রবণতা বন্ধ করার জন্যই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, আগের সরকারের আমলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের নিয়মবহির্ভূত প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও কিছু ক্ষেত্রে একই অভিযোগ সামনে আসছে। সরকারি হাসপাতালের রোগী পরিষেবা এবং মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নত করতেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।



